অ – বলতে গিয়ে যদি “অক্ষর” ফুরিয়ে যায় –
তবে কবিতারা সব ঘুমিয়ে থাক।
বাদ যাক যত তারার ছাদের নিচে রাতযাপন
সময় সেখানে সংক্ষিপ্ত পথ ধরে ভাষা শিখুক।

হরতাল নামুক তোমার কবিতার খাতায় –
অথবা কি-বোর্ডের টুকটাক শব্দে।

রাত এখানে গভীর হয় না –
বরঞ্ছ, অবাঞ্ছিত সকাল আসে।
সূর্য ওঠে না উপন্যাসের পাতায়
আগুনে পোড়ে কালো ছাপার অক্ষর।

সব কবিতার মানে নেই,
সব পথের শেষ নেই
সব প্রেম পরিনয়ে গড়ায় না-
সব ভালোবাসা যেমন কাঁদায় না।

শুধু প্রয়োজনে যে ভালোবাসা, নামতা পড়ে যে জীবন
সে জীবন মানুষের হোক, দোয়েলের – শালিকের নয়।
সে জীবন মানুষের হোক, ফড়িঙের – টিয়ের নয়।
শুধু প্রয়োজনে যে কাছে থাকা, ছকে বাঁধা সে শরীর-মন।

এই দেয়াল ঘেরা শহরে আরো দেয়াল আছে –
দেয়ালের পরে আবারো দেয়াল নামে।
শুধু মানুষ নামের অমানুষেরা নামে না,
থামে না আত্মার নীরব চিৎকার।

দেয়ালে দেয়ালে বাক্সে বন্দী প্রেম
শুধু ভালো থাকার লোভে সময় ফেরি করে বেড়ায়,
শহুরে দেয়ালে শিশির জমে না,
ঘুঘু ডাকে না, কাঠঠোকরা বাসা বানায় না।
এখানে রক্তে, ঘামে আর সময়ে –
আরেকটা দেয়াল নামে, আরেকটা কংক্রিটের বাসা।


কবিতার একটা বড় সুবিধা হল, অনেক সময় কি বলতে চাইছি তা না বলেও বুঝিয়ে দেয়া যায় অল্প কথায়। তার থেকে বড় হল আমি মনের আক্ষেপ আর হতাশা ঝেড়ে ফেলতে পারি সবার অগোচরে।

সবাই কবিতা বোঝে না। সব কবিতা সবার বোঝার জন্যও কবি লেখেন না। কিছু কবিতা শুধু নিজের জন্য লেখা হয়। কবি যতদিন বেঁচে থাকবেন এই কবিতাটিও ঠিক ততদিন বেঁচে থাকবে। একসাথেই দু-জনের প্রয়ান। মাঝে মাঝে ভাবি যদি শব্দের খেলা না থাকত তবে কি ভীষন অপমানিত বোধ করতাম মনের কথাগুলো বলতে গিয়ে।

লেখালেখির শুরু সেই স্কুলে থাকতেই। তখন বিভিন্ন দেয়ালিকা আর কিশোর পত্রিকায় নিয়মিত লিখতাম। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার ফেরা লেখালেখিতে। মূদ্রনে ভীষন অনীহা আমার। প্রযুক্তি সেই সুবিধা দিয়েছে আমাকে। প্রযুক্তি প্রেমিক বলে আমার লেখায় বারবার চলে আসে এই বিষয়গুলো। আমার সাহিত্য ভাবনা, ঘোরাঘুরি আর কিছু ছবি নিয়ে। একদম সাদামাটা একজন মানুষের মনের কোনে কি উঁকি দেয়?

Leave a Reply