আমার ফিরতে বড় দেরি হয়ে যায়,
সব পাখি ঘরে ফেরে, আমি শুধু নীড় হারাই
আমার দেখা হয়না মমতায় বিছানো শিউলি ফুল-
আমি বুনো অর্কিডের আগুন বর্ণে মাতাল হই
হারিয়ে ফেলি শিমুলের ডাল আর কাঁঠাল চাপার সুবাস।
সবাই ঘরে ফেরে, আমি শুধু বিস্মৃত হই
আমার ভাঙনের সুরে আমি অ্যাটলান্টিক সমুদ্র তুলে আনতে গিয়ে-
হারিয়ে ফেলি শ্যাওলা দিঘির ঘাট।
আমার ফেরা হয় না-
আমি হারিয়ে যাই গ্রীক পুরাণে, দেবী আইসিসে
শুধু হারিয়ে ফেলি আমার উর্বর মাটির সোঁদা গন্ধ।
আবার যদি ফিরে আসি, যদি ফেরা হয় চেনা বটের ছায়ায়
তবে মানুষ করে দিও,
দেয়াল নয়, ভেঙ্গে পড়া বাতাস নয় …
এ মাটির একটা ঘাসফুল করে রেখে দিও পায়ের তলায়।
কবিতা
ফাগুনে প্রেম
দেখা হবে বলে বর্ষায় ভিজেছি বোগেনভিলিয়ার নিচে
আরেকটু পথ পেরুলেই একটা সাদা গোলাপ কেনার টাকা জমিয়ে ফেলব।
কর্পদকশুন্য প্রেমিকের শুধু এক কাপ আগুন গরম চা হলেই চলবে
উড়ে যাক বিকেল, আমি শুধু কিছুক্ষন তোমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে চাই।
গল্প
এইসব সময়
নিম্মি হাসল, তার বাবা ভোলানো হাসি। মেয়েরা একেকজন পুরুষের জন্য একেক রকম হাসি মজুদ রাখে। জীবনের বিভিন্ন সময়ে সে এই হাসি ব্যবহার করে। বাবার জন্য মজুদ করা হাসি ভাইকে দেখায় না। আবার স্বামীর জন্য মজুদ করা হাসি অফিসের বসকে দেখাবে না। বেশিরভাগ বোকা পুরুষ এই হাসি গুলিয়ে ফেলে।
ভেজিটেরিয়ান
সার্গেই প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে তার সেক্রেটারির দিকে তাঁকালেন। মেয়েটা চুপসে গেছে। কিন্তু খারাপ খবরটা সকাল সকাল দিতেই হবে। নিরাপত্তা পরিষদের সভায় উপস্থিত না থাকতে পারলে সার্গেইকে জবাবদিহি করতে হবে। আর তাকে না জানালে লিডিয়াকে। লিডিয়া শুধু সংবাদ বাহক মাত্র।
বৃষ্টি বিলাস
যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম, মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করত সারারাত হাঁটব শহরের ওমাথা থেকে এমাথা পর্যন্ত। রাত যত গভীর হবে শহরের রূপ তত খোলে। কোন ব্যস্ততায় জানিনা সেটা আর হয়ে ওঠেনি। যখন হলে থাকতাম, আমি আর জহির মাঝে মাঝেই বের হয়ে যেতাম টিএসসির উদ্দেশ্যে। বিশেষ কোন কাজে নয় এমনিতেই। নানারকম জীবন দর্শনের কথা হোত জহিরের সাথে আমার। ক্লাসমেট বন্ধুদের মধ্যে মনে হয় জহিরই একটু আধটু আমাকে বোঝার চেষ্টা করত।





