আমার ফিরতে বড় দেরি হয়ে যায়,
সব পাখি ঘরে ফেরে, আমি শুধু নীড় হারাই
আমার দেখা হয়না মমতায় বিছানো শিউলি ফুল-
আমি বুনো অর্কিডের আগুন বর্ণে মাতাল হই
হারিয়ে ফেলি শিমুলের ডাল আর কাঁঠাল চাপার সুবাস।
সবাই ঘরে ফেরে, আমি শুধু বিস্মৃত হই
আমার ভাঙনের সুরে আমি অ্যাটলান্টিক সমুদ্র তুলে আনতে গিয়ে-
হারিয়ে ফেলি শ্যাওলা দিঘির ঘাট।
আমার ফেরা হয় না-
আমি হারিয়ে যাই গ্রীক পুরাণে, দেবী আইসিসে
শুধু হারিয়ে ফেলি আমার উর্বর মাটির সোঁদা গন্ধ।
আবার যদি ফিরে আসি, যদি ফেরা হয় চেনা বটের ছায়ায়
তবে মানুষ করে দিও,
দেয়াল নয়, ভেঙ্গে পড়া বাতাস নয় …
এ মাটির একটা ঘাসফুল করে রেখে দিও পায়ের তলায়।
কবিতা
প্রত্যাখ্যান
তোমাকে সামলানো আর একটা রাজনৈতিক দল সামলানো একই কথা
ক্ষেত্রবিশেষে একটা পুরো দেশ সামলে নিতে পারব আমি সেই শ্রমে
আমাকে প্রধানমন্ত্রী করা হোক,
আমি অভিজ্ঞতা, সুচারু রণকৌশল এবং কূটনীতি দিয়ে সবাইকে ধরাশায়ী করে দেব-
তবুও বলি- তোমাকে সামলানো কঠিন।
বিরতি
বিছানার পাশে জানালা দিয়ে সন্ধ্যের আগের নিভু নিভু আলো দেখলাম কিছুক্ষন
কেউ এসে বললো না, এই অবেলায় শুয়ে আছো কেনো? শরীর খারাপ করবে!
মন খারাপের বিকেলগুলোতে কোন সঙ্গী থাকে না।
মনের খবর রাখার লোক নেই, শরীর দিয়ে কি হবে?
তোমাকে দেখি না
অনেকদিন হয়ে গেল তোমাকে দেখি না
আমার সামনে ছায়া হয়ে থাকলেও দেখি না
মানুষে মানুষে দূরত্ব কখন বেড়ে যায় জানো?
যখন আমরা কেউ কারো কথা শুনতে চাই না,
আমরা শুধুই বলি-
গল্প
ঈশ্বরের অশ্রু
সিড়িটা অনেক লম্বা – প্রথমে মনে হয়েছিল শ-খানেক হবে ধাপ। নীলা গুনে গুনে দেখছিল, কিন্তু একসময় হতাশ হয়ে সে গোনা ছেড়ে দিল। হাজারের উপরে গোনা হয়ে গেছে…। প্রতি ধাপে একটা করে মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সবাই ঈশ্বরের সামনে নিজের বিচার দেবার জন্য দাঁড়িয়ে। নীলার…
নাম বলা হয়নি –
মাহির একটা হার্টবিট মিস করল। বুকের ভেতরটা মনে হচ্ছে কেউ খামচে ধরেছে হঠাৎ করে। রেলিং এর পাশে সরে গিয়ে নিচে নামার জায়গা ছেড়ে দিল মেয়েটিকে মাহির। চোখ তখনও মেয়েটির দিকে। মনে হচ্ছে একটা ভালোলাগার সাবলীল ঢেউ চলে যাচ্ছে সিঁড়ি বেয়ে।
যুদ্ধ –
কানের কাছে তিন চারটা মশা অনেকক্ষন থেকে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে বেড়াচ্ছে। আমি চড় দিচ্ছি না, পাছে চটকনাটা আবার নিজের কানের উপর পড়ে। ধৈর্য বৎস … ধৈর্য…। একটার গান দেখলাম একটু বেসুরো হয়ে গেল হঠাত করে। জেট প্লেনের মত গোত্তা খেয়ে আমার কনুইয়ের দিকে আগাচ্ছে আর ভোঁ…ও ও…





