কবিতাসাহিত্য

এখন আমার বিষাদে

এখন এমনকি নারী আর মাদকেও মন টানে না,
বিষন্ন থাকে না লাল রঙা গোধূলি –
এখন আর আলতো পায়ে টিপ টিপ করে হাটি না –
বিকেলের ঘুম ভেঙ্গে যাক – তাতে কার কি?

বারান্দায় বৃষ্টিতে হাত বাড়াই না,
সর্ষে দানায় মানচিত্র খুঁজি না।
এখন হাত ধরে টেনে নিয়ে হঠাত ফিস ফিস করে –
আর বলিনা চলো চিলেকোঠায় যাই…।

আমার কৈশোরের স্বপ্ন আর ঘামের গল্প পকেটেই আছে,
শুধু পকেট-সহ জামাটা হারিয়ে ফেলেছি
আমার কলমটা এখনো খোলা –
শুধু প্রেমের কথাগুলো বিষাদ হয়েছে।

এখন আর দূপুরে খাবার জন্য কেউ ডাকে না,
গালে হাত বা ঠোঁটের ছোঁয়া হঠাত ঘুম ভাঙ্গায় না,
এখন কেউ মাঝরাত্তিরে ফোন দিয়ে বলে না
“…ঘুম আসছে না। … তুমি জেগে আছো”

সরলরেখারা এখন অনেকটাই বাঁকা হয়েছে,
তুবু দিন গুনি ক্যালেন্ডারের পাতায়।
এপিটাফের গোড়ায় শ্যাওলা জমেছে-
প্রাচীন হয়েছে অনুভূতি,
শুধু বেঁচে থাকার ইচ্ছেটাই রয়ে গেছে আগের মত!

একবার মরে যেতে ইচ্ছে করে,
এই বিষাদে গা ভাসিয়ে দিতে ইচ্ছে করে…
আরেকবার…, বেঁচে থেকে কদম ফুলের গন্ধ নিতে ইচ্ছে করে বৃষ্টির রাস্তায়।
হাত ধরে পলাশী থেকে টিএসসি,
অনেক কামুক চোখের পাতায় আগুন লাগিয়ে-
আরেকবার বাঁচতে ইচ্ছে করে আমার নীল বিষাদে।

মন্তব্য