ভেড়ার পালের মাঝে নগ্ন সাহসে ঘুরে বেড়ায় ধূর্ত শেয়াল–
তার হুক্কাহুয়ায় ভেড়ার দল -কুকড়ে উঠে ভাবে কী ভীষন গর্জন!
এই সীমানা প্রাচীর ডিংগিয়ে ভেড়ার দল সবুজ স্বর্গে, কিংবা-
নীল নরকে, পুড়ে অংগার হয়… একবার, দুবার… বারংবার…
আর গলা ছেড়ে ডেকে ওঠে… হুক্কাহুয়া হুক্কা হুয়া—
ক্যায়সা হুয়া?

পত্রিকা পড়া ছেড়ে দিয়েছি। পত্রিকা খুললেই নানা রকমের আজেবাজে নিউজের ছড়াছড়ি। তার কিছু মিথ্যা আর কিছু অতিরঞ্জিত। সবগুলো পত্রিকা ভরে আছে মানুষের অপকর্মের ফিরিস্তি নিয়ে। আচ্ছা মানুষ কি অপকর্ম করতে পারে?

না… পারে না। কারন মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। অন্তত আমাদের তাই ধারনা। তাইতো আমরা পৃথিবী দাপিয়ে বেড়াই। খুন করি যাকে তাকে, ৭২ বছরের বৃদ্ধা, ৬ বছরের শিশু, বোন বা মা মায়ের সমান বয়সের নারী … সবাইকেই ধর্ষন করে বেড়াই। … অথবা সুযোগ খুঁজি। ভিড়ের মাঝে হাত দেই নারীর শরীরে, ইচ্ছা করে গা ঘেষে দাড়াই বাসে বা মার্কেটে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে এদেরকে শুয়োরের বাচ্চা বলতাম। পরে চিন্তা করে দেখলাম, শুয়োর প্রজাতি কখনো এরকম আচরন করেনি। করেছে দো-পেয়ে কিছু জানোয়ার। এই জানোয়ারেরা যদি মানুষ হয় তাহলে আমরা কি?

আমি এই কারনেই পত্রিকা পড়ি না। পত্রিকাওয়ালারা জানোয়ার আর মানুষের তফাৎ বোঝে না। এই নতুন ধরনের জানোয়ারেরা কোথা থেকে এসেছে? এরা দুই পায়ে হাটে, খাবার খায়, ব্যাথা পেলে কাঁদে আমাদেরই মত চিৎকার করে, টয়লেটে যায় – কিন্তু এরা কারা? এই দো-পেয়ে জানোয়ারেরা যদি মানুষ না হয়ে থাকে তবে এদের কে বানিয়েছে?

আর… এরা যদি মানুষ হয় তবে আমরা কারা? পত্রিকাগুলো কাদের খবর ছাপায় প্রতিদিন?

বাঙ্গালীর মাঝে অনেক শিক্ষিত লোকজন থাকলেও সমষ্টীগতভাবে এরা অনেক বর্বর আর অশিক্ষিত একটা সম্প্রদায়। আজকে যে ঘটনার কারনে এই লেখা লিখতে বসেছি সেটার একটু ব্যখ্যা না দিলে বোঝা যাবে না।

ঘটনা নোয়াখালী অঞ্চলের। সেখানে প্রায় ৩২ দিন আগে এক নারীকে বস্ত্রহরন এবং পাশবিক কায়দায় নির্যাতনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাকে মনে হচ্ছে ধর্ষন করার চেষ্টাও করা হয়েছে।

এই নরকে - 1
সোর্সঃ প্রথম আলো

৩২ দিন পর অপরাধীরা যখন ব্লাকমেইলিং করতে পারছিল না তখন ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেয়। পাঠক চিন্তা করে দেখুন প্রায় ৩২ দিন ধরে মূল অপরাধীরারা ঘুরে বেড়াচ্ছিল আর ভয়ভীতি দেখাচ্ছিল নির্যাতিতাকে।

একটা গ্রামে এতো বড় ঘটনা ঘটে গেলেও ৩২ দিন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। এমনকি ঐ এলাকায় এ নিয়ে কোনো বিচার সালিশ হয়নি। ঐ এলাকার মানুষ নামের ভেড়ার পালেরা কিছুই বলেনি। তারা ৩২ দিন ধরে ভেবেছে এটাই সাধারন… এরকমই হবার কথা।

ভিডিওটা আমি দেখেছি। এরপর অনেক্ষন অক্ষম আক্রোশে ঝিম মেরে বসে ছিলাম। একজন বিবস্ত্র মহিলা আল্লাহর দোহাই দিচ্ছেন বারবার। আর তার থেকে কম বয়েসি কিছু শ্বাপদ তাকে নির্যাতন করছে মারছে আর বলছে এটা ফেইসবুকে দেয়া হবে।

একজন বিবস্ত্র মহিলা ভাই ডাকছেন… মাফ চাচ্ছেন অপরাধ না করে… আর কিছু দুই পায়ের শিশ্নধারী, মানব সন্তান চরম উল্লাসে তা ভিডিও করছে। ৩২ দিন হয়ে গেছে সমাজ ব্যবস্থা কিছু বলে নি। আদতে ঐ এলাকা মানব সভ্যতার বাইরে কিনা সেটা নিয়েই আমার সন্দেহ হচ্ছে।

ওরা হয়ত আমাদের বিচারের আওতায়-ই পড়ে না। না হলে অপরাধের যে প্রবনতা সেটাতে কোন বিরাম দেখি না কেন? যেন কাউকে বিবস্ত্র করে ফেইসবুকে ভিডিও ছেড়ে দেয়াটা একটা সাধারান ব্যপ্যার। তার কোন চুলও কেউ ছিড়তে পারবে না। এত নিশ্চিন্ত হয় কিভাবে এরা?

এরা যদি মানুষ হয় … তবে আমরা কারা?

যে কোন অপরাধের বিচার যখন প্রলম্বিত হয় – সেটা বিচার না হওয়ারই আভাস দেয়। আর এতে আরো বেশি গা-ছাড়া ভাব দেখা যায় এই সকল মানুষ নামের জানোয়ারদের। এরা একের পর এক অন্যায় করেই যায়।

আমাদের এখানে ধর্ষনের ঘটনা নতুন নয়। একটা ধর্ষনের ঘটনা ঘটলেই আমরা নানাভাবে এটাকে যায়েজ করার চেষ্টা করি। প্রথম আঘাত আসে ভিক্টিমকে আরো ভিক্টিমাইজ করে। আসে তার পোষাক নিয়ে মন্তব্য… একা একা চলাফেরা নিয়ে মন্তব্য… সোশাল মিডিয়ায় আমরা গনহারে কুতসা রটাই। নিজেদের সভ্য জাহির করে ধর্ষিতাকে আরেকবার ধর্ষন করে দেই।

আমাদের মাঝে থাকা জানোয়ারেরা প্রমান করার চেষ্টা করে ধর্ষন কাপড়ের কারনে হয়, একা একা চলাফেরার কারনে হয়। এ সমাজে একা একা নারীর কোথাও যাওয়াটাই যেন একটা অপরাধ। আর এখনতো স্বামীর সাথে গিয়েও ধর্ষনের স্বীকার হচ্ছেন নারীরা।

কোথা থেকে আসে এই শিক্ষা? পরিবার থেকে? সমাজ থেকে? বিদ্যালয় থেকে? – এর পরও আপনি মনে করবেন আমারা অনেক সু-শিক্ষিত জাতি?

না – আমাদের অধিকাংশ মানুষই ধর্ষনের মনোভাব পোষন করেন। না পারলে সেটাকে জায়েজ বানানোর চেষ্টায় থাকেন।

এরকম জগন্য অপরাধের শাস্তি মারাত্বক – এটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার জন্য একটা আইন প্রনয়ন করাটা কি খুবই দূরহ একটা কাজ? এসিড সন্ত্রাস যদি রুখে দিতে পারেন – তবে এখানে সমস্যা কোথায়?

নাকি – নিজের শিশ্ন নাই বলে অন্যদের শিশ্ন নিয়ে মাথব্যাথা নেই আইন প্রনেতাদের? আর কত…? আর কতকাল মানুষের পত্রিকার পাতায় জানোয়ারেরা হেডলাইন হয়ে যাবে?

বলতে পারবেন আপনি কোন নারীর গর্ভে জন্ম নেননি? আপনার কোন কন্যা, স্ত্রী, মা- বোন- খালা -দাদী – ফুপু নেই? দ্রুত আইন করুন … কারন একদিন সবারই সময় আসবে।

লেখালেখির শুরু সেই স্কুলে থাকতেই। তখন বিভিন্ন দেয়ালিকা আর কিশোর পত্রিকায় নিয়মিত লিখতাম। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার ফেরা লেখালেখিতে। মূদ্রনে ভীষন অনীহা আমার। প্রযুক্তি সেই সুবিধা দিয়েছে আমাকে। প্রযুক্তি প্রেমিক বলে আমার লেখায় বারবার চলে আসে এই বিষয়গুলো। আমার সাহিত্য ভাবনা, ঘোরাঘুরি আর কিছু ছবি নিয়ে। একদম সাদামাটা একজন মানুষের মনের কোনে কি উঁকি দেয়?

1 COMMENT

  1. বলতে পারবেন আপনি কোন নারীর গর্ভে জন্ম নেননি? আপনার কোন কন্যা, স্ত্রী, মা- বোন- খালা -দাদী – ফুপু নেই?

    মহামান্য লেখকের অবগতির জন্য বলছি, যদিও বলতে আমার রুচিতে বাঁধাছে, তবুও প্রবল শক্তি স্বঞ্চয় করে বলছি আপনি যে প্রকৃতির জানোয়ারদের কথা বললেন এরা হয়তো এদের মা বোনদেরও ধর্ষন করে রেখেছে, হয়তো সেখান থেকেই হাতেখড়ি!!!লোক লজ্জায় মা বোনরা কাউকে বলতে পারেনি।

Leave a Reply