গুজবে কান দেবেন না, দেশে বাতাবি লেবুর ফলন ভালো হয়েছে

গুজবে কান দেবেন না বললেই কি হয়? গুজব বাঙ্গালির প্রথম ও প্রধান খাদ্য। যা কিছু রটে তার কিছুতো বটে, এই থিওরিতে আমরা বিশ্বাস করি।

গুজবে বিশ্বাস করার একটা কারন হল অজ্ঞতা। যেহেতু কিছু একটা আমি বিশ্বাস করতে চাই তাই যা শুনি তাই বিশ্বাস করি এবং ছড়াই।

বাঁচার একটা মাত্র পন্থা, তা হল সঠিক ইনফরমেশন জনগনের নিকট পৌঁছে দেয়া। আজকে সকাল পাঁচটায় একটা মেসেজ পেলাম মোবাইল অপারেটর থেকে ” গুজবে কান দেবেন না, দেশে বাতাবি লেবুর ফলন ভালো হয়েছে” ।

যেহেতু সঠিক ইনফরমেশন পাস হচ্ছে না (কারন তাতে ইমেজের ক্ষতি হয়) তাই গুজব আরো বেশি করে রটেছে। টকাশোতে এসে একদল পন্ডিত, এরা টিভিতে এসে মিথ্যা কথা বলে, আমরা জানি, শুনি, বুঝি এবং গালিগালাজ দেই। আমাদের কিছু করার নেই। আমরা আন্দোলনেও নামি না। কোনরকমে পেটে-ভাতে থাকতে পারলেই আমরা খুশি।

কিন্তু একদল আন্দোলনে নেমেছিল, তারা তাদের অসন্তোষ আর দাবি নিয়ে গর্জন সারা বাংলাদেশে পৌঁছে দিয়েছে। আমরা তাদের সাপোর্ট করেছিলাম। এবং সব বারের মত এবারও তাদের মার খেতে হয়েছে।

যে প্রজন্ম মার খেয়েছে আজকে তারাই একদিন দেশ চালাবে। এই মারের কথা যদি তারা ভুলে যায় তবে এদেশের কোন ভবিষ্যত নেই। বিশ বছর পর এরা এই মারের প্রতিশোধ নিবে তাদের দাবি দাওয়া নিজেরা পুরন করে। এরাই তখন সরকার হবে, দেশ হবে। দেশ বলে আলাদা কোন সত্বা নেই, মানুষই দেশ।

তাই এখনো আশা দেখি।

 

 

গুজবে কান দেবেন না, দেশে বাতাবি লেবুর ফলন ভালো হয়েছে 1

 

 

একটা গল্প মনে পড়ে গেল এই সময়, নিচে দিয়ে দিচ্ছি সারমর্ম বের করে নেবেন। বিশ্বাস খুব ভঙ্গুর জিনিস একবার ভেঙ্গে গেলে তা আর জোড়া লাগে না। আমাদের দুটো প্রজন্ম জেনে গেছে শাসক শ্রেনী বিশ্বস্ত নয়।


এক স্বর্ণকারের মৃত্যুর পর তার পরিবারটা বেশ সংকটে পড়ে গেল। খাদ্য-বস্ত্রে দেখা দিল চরম অভাব।

স্বর্ণকারের বিধবা স্ত্রী তার বড় ছেলেকে একটা হীরের হার দিয়ে বললো–এটা তোর কাকুর দোকানে নিয়ে যা, বলবি যে এটা বেচে কিছু টাকা দিতে।
ছেলেটা হারটি নিয়ে কাকুর কাছে গেল।

কাকু হারটা ভালো করে পরীক্ষা করে বললো- বেটা, তোমার মাকে গিয়ে বলবে যে এখন বাজার খুবই মন্দা, কয়েকদিন পর বিক্রি করলে ভাল দাম পাওয়া যাবে। কাকু কিছু টাকা ছেলেটিকে দিয়ে বললেন–আপাতত এটা নিয়ে যাও আর কাল থেকে তুমি প্রতিদিন দোকানে আসবে আমি কোন ১দিন ভাল খদ্দোর পেলেই যেন তুমি দৌড়ে হার নিয়ে আসতে পার তাই সারাদিন থাকবে।

পরের দিন থেকে ছেলেটা রোজ দোকানে যেতে লাগলো।সময়ের সাথে সাথে সেখানে সোনা-রুপা-হীরে কাজ শিখতে আরম্ভ করলো।

ভাল শিক্ষার ফলে অল্প দিনেই খুব নামি জহুরত বনে গেল। দূর দূরান্ত থেকে লোক তার কাছে সোনাদানা বানাতে ও পরীক্ষা করাতে আসত। খুবই প্রসংশীত হচ্ছিল তার কাজ।

একদিন ছেলেটির কাকু বললো– তোমার মাকে গিয়ে বলবে যে এখন বাজারের অবস্থা বেশ ভালো, তাই সেই হারটা যেন তোমার হাতে দিয়ে দেন। এখন এটা বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যাবে।

ছেলেটি ঘরে গিয়ে মায়ের কাছ থেকে হারটি নিয়ে পরীক্ষা করে দেখলো যে এটা একটা নকল হীরের হার। তাই সে হারটা আর কাকুর কাছে নিয়ে যায় নি।
কাকু জিজ্ঞেস করলো– হারটি আনো নি ?

ছেলেটি বললো– না কাকু, পরীক্ষা করে দেখলাম এটা একটা নকল হার।

তখন কাকু বললো- তুমি যেদিন আমার কাছে হারটি প্রথম নিয়ে এসেছিলে সেদিন আমি দেখেই বুঝে নিয়েছিলাম যে এটা নকল, কিন্তু তখন যদি আমি তোমাকে এই কথাটা বলে দিতাম, তাহলে তোমরা হয়তো ভাবতে যে আজ আমাদের মন্দ সময় বলেই কাকু আমাদের আসল জিনিষকে নকল বলছে। আজ যখন এ ব্যাপারে তোমার পুরো জ্ঞান হয়ে গেছে, তখন তুমি নিজেই বলছো এটা নকল হার।

এই দুনিয়াতে প্রকৃত জ্ঞান ছাড়া তুমি যা কিছু দেখছো…যা কিছু ভাবছো সবটাই এই হারের মতই নকল, মিথ্যে।

জ্ঞান ছাড়া কোন জিনিসের বিচার সম্ভব নয়। আর এই ভ্রমের শিকার হয়েই অনেক সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। আমি সেই সম্পর্কটা নষ্ট হোক তা চাইনা।

(সংগৃহীত লেখা)

2 Comments

  1. Masud rahman August 5, 2018

Leave a Reply

%d bloggers like this: