কবিতা

অসমাপ্ত কবিতা – ২

এই অঝোরে ঝরে যায় যাক না-
মিছে হিম, ভোরের যত বায়না
আকাশ চলে যাক কেঁদে মাটির সীমানায়
পৃথিবীর খেলাঘরে মন শুধু স্মৃতির আয়না!


আমাদের আর কোনদিন এভাবে হাত ধরে বসা হবে না
মন খুলে বলা হবে না অভিমানের যত পংক্তি,
শুধু অভিযোগ জমে জমে আরেকটু উঁচু হবে ঘৃনার দেয়াল
আর কোন ল্যাম্পপোস্ট সন্ধ্যায় পাবে না স্বস্তা পারফিউমের সুবাস।

আমাদের অভিমানেরা সরল রেখায় দিগন্ত ছুঁয়ে সমুদ্রে যায়
সে সমুদ্রে নোনা ঝড়ে পাল তোলে গোলাপী রঙের দুঃখরা।

আমাদের আর কোনদিন বসা হবে না এই বারান্দায়
এখানে বকফুলেরা নিত্য ঝরে যায় ছায়ার আড়ালে।

আমরা কি আর কোনদিন মানুষ হব না?
আর কোনদিন যদি চোখে চোখে কথা না হয়
নিরব রবে সব সরলরেখার মত,
আমাদের আর কোনদিন ঘরে ফেরা হবে না!


মন ভাসিয়ে আকাশগঙ্গার পথে,
এই পৃথিবী ছেড়ে দ্বিতীয় কোন জীবনে-
সেই লৌকিক ভর হারিয়ে ঈশ্বরের সাথে
আমাদের শক্তিতে শূন্যের নিত্যতা মেনে,
আবার যদি দেখা হয়ে যায় –
একই অনুর কক্ষপথে,
কিছুটা বেগ হারিয়ে তুমিও বলে দিও
ভালোবাসা শুধুই মানবিক আর
মস্তিষ্কের কল্পনার রাসায়নিক বিক্রিয়া!


আমি কারো বিজয়ে বা হতাশায় নয়
শুধু নির্নিমেষ চাহনিতে লুকিয়ে থাকব
শুধু শুধু কারো মানিব্যাগের ছবি হব না –
গোপনে প্রেমিকার জন্য যে অশ্রু ঝরে।

কোন বৈশাখের নরম আলকাতরা নয়
হলে পুরো রাজপথই হব, পুরোটা তাবদাহ জুড়ে
যে উত্তাপ তোমাদের মেরুদন্ড জ্বালিয়ে দেয়।

আমি দ্রোহের সেই আগুন হব,
যার চিৎকারে যমঘর থেকে নবজাতকের কোল পর্যন্ত
একটা ভীষণ ক্রোধ ছাই হয়ে যাবে।

আমি এই বেজন্মাদের শহরে একটা ফুল হব-
বেয়নেটের ডগায় যে মুচকি হাসে,
আমি শুধু একটা হাসি হয়ে রব,
ঠোঁটের কোনে, আলতো করে।

মন্তব্য