আপনার প্রায়োরিটি ঠিক করুন – জীবন বদলে যাবে

আপনার প্রায়োরিটি ঠিক করুন - জীবন বদলে যাবে 1

এই কথাটা হয়ত শুনে থাকবেন, “Nobody is too busy, you are not just important.

এর মানে কেউ যখন আপনাকে ব্যস্ততা দেখায়, তার মানে হল আপনি এই মুহুর্তে তার কাছে গুরুত্বহীন। আপনার থেকে জরুরী অন্য কোন কাজ তার আছে।

আমাদের জীবনটা এমনই, আমরা সবসময় প্রায়োরিটি বেসিসে আমদের কাজ গুলো করে থাকি।

অফিস যাওয়া আড্ডা দেয়ার থেকে বেশি জরুরী বলে আমরা অফিস যাই। আড্ডা অফিসের পরে হতে পারে।

প্রেমিকার সাথে ফুচকা খাওয়া বন্ধুর থেকে গুরুত্বপূর্ন বলেই আড্ডার বদলে সেখানে চলে যান আপনি।

কারন প্রায়োরিটি ম্যাটারস। বাংলা লেখার মাঝখানে আমি সচেতন ভাবেই ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করছি। এখানেও প্রায়োরিটি কাজ করছে।

তো দেখা যাচ্ছে জীবনের সব ক্ষেত্রেই আমদের প্রায়োরিটি মেনে চলতে হয়, কাজ করতে হয়।

একজন মানুষ সফল হবে নাকি ব্যার্থ হবে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্ভর করে এই প্রায়োরিটি ঠিক করার উপর।

একজন ব্যাবসায়ী যদি তার বিজনেসকে গুরুত্ব না দিয়ে জুয়া খেলা নিয়ে ব্যাস্ত থাকে তবে তার ব্যবসার কি হবে তা সকলেরই অনুমেয়।

আপনার জীবনে আপনি কিছু করে দেখাতে চান? আপনার কোন অভিষ্ট লক্ষ আছে?

তবে সবার আগে আপনার প্রায়োরিটি ঠিক করে ফেলুন।

আপনার প্রায়োরিটি ঠিক করুন - জীবন বদলে যাবে 2

চিন্তা করে দেখুন আপনি কেন অসফল? আপনার নিজের কোন ভুলেই কি নয়? যে ছেলে ডাক্তার হতে চায় সে নিশ্চই সমাজ বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করবে না! তার প্রায়োরিটি হলো মেডিকেল সাইন্স নিয়ে পড়াশোনা করা।

আপনি ভাল লেখক হতে চান? তবে আপনাকে লিখতে হবে প্রচুর, পড়তে হবে প্রচুর। আপনি যদি শুধু আড্ডাবাজি করে সময় কাটান তবে আপনার লেখার অভ্যাস গড়ে উঠবে না। আড্ডা দিতে যতই ভালো লাগুক, আপনার প্রায়োরিটি লেখা এবং পড়া।

আজকে আপনি অসুখি আপনার নিজের কারনেই। আপনি হয়ত এমন কাউকে নিজের থেকে প্রায়োরিটি বেশি দেন যে আপনার মন খারাপের কারন হয়ে দাঁড়ায়। সেটা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা বা বন্ধু বান্ধব যে কেউ হতে পারে। ঝেড়ে ফেলুন এদের মন থেকে। নিজেকে প্রায়োরিটি দিন।

আপনার প্রায়োরিটি ঠিক করুন - জীবন বদলে যাবে 3

একজন মানুষের জীবনকাল সীমিত। এই অল্প সময়ে সে কি কি কাজ করতে পারবে তাও সীমিত। চাইলেই আমি একসাথে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, খেলোয়াড় হতে পারব না। আমাকে প্রায়োরিটি দিতে হবে আমি যা হতে চাই তার দিকে।

ক্রিকেট খেলা ভালো লাগে বলেই আমি সারাদিন ক্রিকেট নিয়ে পড়ে থাকব তা কিন্তু নয়। আমার প্রায়োরিটি হবে আমার প্রফেশন। কারন আমার প্রফেশন আমার জীবিকার জোগাড় করবে।

আপনার জীবনের সাফল্য ব্যার্থতা আপনার নিজের হাতে। যা কিছু করতে চান বা হতে চান, তার একটা তালিকা তৈরি করে ফেলুন। এরপর প্রায়োরিটি অনুযায়ী সাজিয়ে ফেলুন সেগুলোকে।

প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন করে ফেলার চেষ্টা করুন, দেখুন সব কিছু অনেক সহজ হয়ে যাবে। প্রত্যেকটা কাজের জন্য আলাদা আলাদা সময় বরাদ্দ রাখুন।

মনে রাখুন আপনার জীবনের ৯০ ভাগ আপনি নিজেই কন্ট্রোল করার ক্ষমতা রাখেন। আগামী দশ বছর পরে আপনি নিজেকে যে অবস্থানে দেখতে চান আজকে থেকেই তার জন্য কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ুন।

নিজেকে উপহার দিন ভবিষ্যত। মনে রাখুন, আমাদের বর্তমানের কাজ নির্ধারন করে দেবে আমাদের ভবিষ্যত।

Leave a Reply