একটি সিএনজি রিলে রেসের কাহিনিরাতের দাওয়াত শেষে প্রায় তখন রাত ১০.২০ বাজে, তাড়াতাড়ি বাসায় পৌছানোর জন্য জন্য সিএনজি নিলাম অনেক কষ্টে। বনশ্রী এ ব্লকে তখন রাস্তা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। সিএনজি ড্রাইভার বোনাস কিংবা মিটার কোনটাতেই রাজি না। তার এক ডিমান্ড জবটা ফিক্সড প্রাইস হতে হবে। যাক শেষমেশ তাতেই (১৮০ টাকা) রাজি হতে হল আমাকে। ঘটনা শুরু এখানে…।

কিছুক্ষন পরে তিনি রামপুরা পার হবার পরে নাকে মাস্ক লাগান, আমকে বিড়বিড় করে কি যেন বলেন-

  • কি বলেন চাচা?

ঃ আপনারা যে বডিতে মাখেন না ঐটা আমার সহ্য হয় না। আমার চোখ জালা করতেছে…… নাহ আমি আর জাইতে পারুম না।

  • মানে কি? আমিতো কোন কিছু দেখতেছি না, আপনার সমস্যাটা কোথায়? ধুলা আপনেও খাইতেছেন আমিও খাইতেছি।

ঃ আরে নাহ, ঔটা না। আতর বডি লোশন এইগুলান আমার সহ্য হয় না। দেখেন নাহ আমার চোখ দিয়া পানি পড়তেছে!!!

আমি কিছুটা বেকুবের মত হয়ে গেলাম। উনি শিওর আমার পারফিউমের সেন্টের কথা বলতেছিলেন। আমি বডি লোশন (!)/ বডি স্প্রে দেই না। যেটা আজকে ব্যবহার করেছি, স্পাইসি আর একুয়াটিক এই সেন্টটা আমি গিফট পেয়েছি,প্যারিসের মাল। কিন্তু তিন-চার ঘন্টা পরে সেটা এতটা তীব্র হতে পারে না যে তার চোখ দিয়া পানি পড়বে আর সে সিএনজি চালাইতে পারবে নাহ। পুরাই আবুল হয়ে গেলাম।

কোথায় যেন পড়েছিলাম লাখে একজন বা দুইজন মানুশের কুকুরের মত প্রবল ঘ্রান শক্তি থাকে। আবার কারো কারো অসুখ থাকে এই রকম।

যাই হোক- সে ইতিমধ্যে মালিবাগ ডি,আই,টি রোডে সিএনজি থেকে নেমে নাকে মুখে পানি দেয়া শুরু করেছে। বাধ্য হয়ে আমাকেও নামতে হল। ভাগ্যিস সাথে আমার বউ ছিল না আর সিএনজি থামিয়েছে একেবারে ফিলিং স্টেশনের সামনে। কারন ঐখানে আরো সিএনজি আছে।

  • আপনি কি আসলে গ্যাস নিবেন এই জন্য তালবাহানা করতেছেন?

ঃ না, মামা আসলেই আমার সমস্যা হইতেছে(!) আপনি এইখান থেকে অন্য সিএনজিতে যান।

তারে ৫০ টাকা দিয়ে আমি আরেকটা সিএনজির দিকে গেলাম। মনে মনে গালি দিয়েছিলাম কিনা খেয়াল নাই। :-B এই ২য় সিএনজি ড্রাইভার ও ফিক্সড প্রাইস বাদে যাবে না। আমার অলরেডি ৫০ টাকা লস। আবার যাত্রা শুরু। মৌচাক মার্কেট পার হবার আগেই এই ২য় সিএনজির স্টার্ট কম পক্ষে ৪ বার বন্ধ হয়েছে। ইঞ্জিন যক্ষা রুগির মত খক খক খক…… ঘ্যা… ঘ্যা…। বা…। আমার মত ধৈর্যশীলেরও তখন বিরক্তি লাগা শুরু হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত মৌচাক মার্কেটের বাইপাস গলিতে গিয়ে পারমানেন্টলি স্টার্ট বন্ধ।

  • কি সমস্যা?

ঃ গ্যাস নিলেই এইরকম করে, সারাদিন চালাইছি তখন কোন সমস্যা হয় নাই।

  • প্লাগে ময়লা জমছে বোধ হয় দেখেন।

সে নেমে গিয়ে অনেক্ষন পিছনে ইঞ্জিন চেক করল, নাহ কোন ভাবেই স্টার্ট নেয় না।

  • ভাই প্রব্লেম কি?

ঃ সেলফ স্ট্রারটার নেয় না। ধাক্কা দিলে মনে হয় চালু হইত।

  • আমি ধাক্কা দিলে হবে?

ঃ নাহ, আপনি একলা দিলে হবে না। আরেকটা সিএনজি দিয়া ঠেলা দিলে হবে।

অনেক্ষন চেষ্টা করেও আমাদের পাস করে যাওয়া কোন সিএনজি আলাকেই সে রাজি করাতে পারল না ধাক্কা দিতে। কেউই রাজি নাহ।

  • আপনারা সিএনজি ড্রাইভাররা তো দেখি একজন আরকেজনরে সাহায্য করতেই রাজি হন না। ঘটনা কি?

ঃ  খান……… … পু… রা মানুষই না।

আমি পুরাই হতাশ তখন। সে নিজেই আরেকটা সিএনজি আলাকে দাঁড় করিয়ে পলাশীর ভাড়া ঠিক করে দিল। আমি ভাড়া মাইনাস করে তাকে টাকা দিলাম।

  • এরে বলেন আপনার গাড়ি ধাক্কা দিয়ে দিক।

কিছুক্ষন টালবাহানার পরে যখন আমি বললাম তখন এই ৩য় সিএনজির ড্রাইভার রাজি হল ধাক্কা ধাক্কি খেলতে।

অবশেষে কিছুক্ষন পুশ- পুশ খেলার পরে আমরা সবাই খুশি মনে গন্তব্যের দিকে রওনা দিলাম। কিন্তু বাকি রাস্তা এই ৩য় সিএনজির ড্রাইভার আমাকে বলতে বলতে গেল ধাক্কা ধাক্কির অপকারিতা কি, ধাক্কা দিয়ে কেন লাভ হবে না…… ইত্যাদি ইত্যাদি।

আর আমি তখন চিন্তা মগ্ন – ১৩০ টাকার রিকশা ভাড়ার রাস্তা আমি কয়টাকা সিএনজি ভাড়া দিলাম এবং কুফাটা কে? আমি না সিএনজি?

লেখালেখির শুরু সেই স্কুলে থাকতেই। তখন বিভিন্ন দেয়ালিকা আর কিশোর পত্রিকায় নিয়মিত লিখতাম। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার ফেরা লেখালেখিতে। মূদ্রনে ভীষন অনীহা আমার। প্রযুক্তি সেই সুবিধা দিয়েছে আমাকে। প্রযুক্তি প্রেমিক বলে আমার লেখায় বারবার চলে আসে এই বিষয়গুলো। আমার সাহিত্য ভাবনা, ঘোরাঘুরি আর কিছু ছবি নিয়ে। একদম সাদামাটা একজন মানুষের মনের কোনে কি উঁকি দেয়?

Leave a Reply