আলিনা অধ্যায় - ১ 1

‘অত্র সাত ঘটিকা’র সময় চোখ খুলে দেখি আমার মেয়ে বিছানায় উঠে বসে আছে। আমাকে চোখ পিট পিট করতে দেখেই বলল, দাদুকে গুডমর্নিং বলে আসি।

তার অর্থ হল, দরজা খুলে দাও আমি সবাইকে ঘুম থেকে তুলে দিয়ে আসি। … কি মুশকিল…। যতই না করি তার কান্না বাড়ে সাথে ভলিউম।

ঃ আমরা পরে গুডমর্নিং বলি মা?
– না এখনি। আ আ আ আ আ……।
ঃ সবাই তো এখন ঘুমায় মা, আরেকটু পরে ঘুম থেকে উঠলে যাবো? সবাই রোজা রেখেছে না।
– না আ আ আ আ আ আ…। এখনি বলতে হবে।
ঃ আচ্ছা… আচ্ছা কান্না বন্ধ কর, যদি সবাই ঘুমিয়ে থাকে তুমি আবার চলে আসবে, আমরা আমরা আবার ঘুমাব, ওকে?
– ঠিক আছে…। এবার তার কান্না বন্ধ হল।

যথারীতি আমি তাকে নিয়ে দেখালাম সবাই ঘুমায়, কিন্তু সে আর আসবে না। তাকে জোর করে আনতে গেলেই আবার চিৎকার এবং কান্না। ফল স্বরুপ সবাই ঘুম থেকে উঠে গেল।

আম্মুঃ তুই ওকে কান্দাস কেন?
আমার মেয়েঃ বাবা… আমাকে বকা দিয়েছে। … সকালে বকা দিয়েছে… কালকে বকা দিয়েছে…… রাতে বকা দিয়েছে।

আম্মু যতই তাকে আদর করে তার নাটকীয় কান্না ততই বাড়ে। সাথে বাড়ে চোখের পানি।

আমি আমার মেয়ের ব্লাকমেইলিং প্রতিভায় মুগ্ধ এবং কিছুটা আতঙ্কিত ভবিষ্যতে আর কি কি দেখতে হবে সেই জন্যে।

সবাইকে অগ্রিম ঈদ (মতান্তরে ইদ) মুবারক।

লেখালেখির শুরু সেই স্কুলে থাকতেই। তখন বিভিন্ন দেয়ালিকা আর কিশোর পত্রিকায় নিয়মিত লিখতাম। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার ফেরা লেখালেখিতে। মূদ্রনে ভীষন অনীহা আমার। প্রযুক্তি সেই সুবিধা দিয়েছে আমাকে। প্রযুক্তি প্রেমিক বলে আমার লেখায় বারবার চলে আসে এই বিষয়গুলো। আমার সাহিত্য ভাবনা, ঘোরাঘুরি আর কিছু ছবি নিয়ে। একদম সাদামাটা একজন মানুষের মনের কোনে কি উঁকি দেয়?

Leave a Reply