Sacred Games (2018-2019) – টিভি সিরিজ রিভিউ

যেমন লেগেছে Sacred Games
  • গল্প
  • অভিনয়
  • গ্রাফিক্স
  • চরিত্র
  • মিউজিক
  • সিনেমেটোগ্রাফি
4.3

Sacred Games (সিজন ১ এবং ২) থ্রিলার লাভারদের জন্য অনন্য এক টিভি সিরিজ

এক মিনিটের জন্যও স্ক্রিনের সামনে থেকে সরতে পারবেন না এইরকম উত্তেজনা পূর্ন একটা সিরিয়াল। প্রতি পর্বের শেষেই আছে পরের পর্ব দেখতে চাওয়ার মালমশলা। ঘটনার পরম্পরার সাথে কখন যে নিজেই জড়িয়ে যাবেন বুঝতে পারবেন না।

নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকি আর সাইফ আলী খানের সেরা অভিনয়ের একটা হলো এই Sacred Games।

থ্রিলার দেখা যদি আপনার পছন্দের তালিকায় থাকে তবে নেটফ্লিক্স এর Sacred Games আপনি কোনভাবেই মিস করতে চাইবেন না।

এতদিন শুধু হলিউড এ এই ধরনের গল্পের অবতারনা দেখেছি এবার হিন্দিতেও দেখা গেল টানটান উত্তেজনা পূর্ন একটা টিভি সিরিজ।

Sacred Games (2018-2019) - টিভি সিরিজ রিভিউ 1

Sacred Games ভিক্রাম চন্দ্রার উপন্যাস থেকে করা কাহিনীর চিত্রায়ন। অনুরাগ কাশ্যাপ আর বিক্রামাদিত্যের সেরা কিছু ক্রিয়েশনের মধ্যে এই টিভি সিরিজ অবশ্যই উপরের দিকে থাকবে।

একটা ভালো থ্রিলার টিভি সিরিজ মানেই উত্তেজনা থাকতে হবে, একশন থাকতে হবে, আর প্রতিটা পর্ব শেষে এমনভাবে গল্পটাকে ঝুলিয়ে দিতে হবে যাতে পরবর্তী পর্বের জন্য দর্শকের মন আকুলি বিকুলি করে। Sacred Games এইখানেই পুরোপুরি স্বার্থক।

এক একটা পর্ব শেষ হয় আর দর্শকের উত্তেজনা বাড়ে। যেটাকে সাধারন একটা ক্রাইম মনে হয়েছিল তার অলিতে গলিতে জড়িয়ে আছে আরো অনেক না জানা অপরাধের গল্প। কি সুচারুভাবে কাহিনীর বর্ননা করে গেছেন লেখক আর পরিচালক তা দিয়ে অসাধারন নৈপুণ্য ঢেলে সাজিয়েছেন মুম্বাই আন্ডার ওয়ার্ল্ড তা বুঝতে হলে এই সিরিজ অবশ্যই দেখতে হবে।

গল্প যেভাবে আগায়ঃ

সারতাজ সিং (সাইফ আলী খান) একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে কল পায়। পুলিশকে সাধারনত যেভাবে ইনফরমেশন দেয় আরকি অচেনা সোর্স থেকে। প্রথম দিকে সারতাজ ব্যপারটা আমলে না আনলেও পরে যখন বুঝতে পারে এই ফোন বিখ্যাত মাফিয়া ডন গনেশ গাইতুন্ডের তখন সে চেষ্টা করে কল ট্রেস করে তাকে ধরার।

কিন্তু গাইতুন্ডে ধরা দেয়না। সারতাজের সামনেই সে আত্মহত্যা করে। কিন্তু এতদিন পরে কেন সে আবার ফিরে এল আর তাকেই কেন ফোন করল তা জানার জন্য উদগ্রীব হয় সারতয়াজ সিং।

গাইতুন্ডে মরার আগে তার তিন বাবার কথা বলে যায়। এদের সাথে সারতাজের বাবা গুলাব সিং এর কি সম্পর্ক, এই রকম নানা ছোটখাট বিষয় ভাবিয়ে তোলে সারতাজকে। সে বোঝানোর চেষ্টা করে তার সিনিয়রকে গাইতুন্ডে ফাঁকা বুলি আওড়ানোর মানুষ না। নিশ্চয়ই মুম্বাইয়ে বড়সড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে।

প্রতিটা পর্ব শেষ হয় আর দর্শক জড়িয়ে যায় ঘটনার পেছনের ঘটনায় উত্তেজনা আরো বাড়ে। আর আমরা আস্তে আস্তে বুঝতে পারি মুম্বাইকে নিয়ে করা এক অশুভ পরিকল্পনা নিয়ে।

পরিচালক দেখিয়েছেন কিভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে পলিটিক্স, দেশ এবং এর মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলা যায়। ঘটনার সময়কাল যে সময়টাতে তখন মুম্বাইয়ে মাফিয়া ডনদের রাজত্ব ছিল।

সাইফ আলী খান আর নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকি আমার সবসময়ের প্রিয় দুজন অভিনেতা। নওয়াজের ধারাভাষ্যে একে একে অতীত থেকে বর্তমানে তার উঠে আসা আর মুম্বাইয়ের নিউক্লিয়ার থ্রেট – সব কিছু মিলিয়ে এই টিভি সিরিজ হলিউডের যেকোন সিরিজের সাথে টেক্কা দিতে পারবে।

দ্বিতীয় সিজনে এসে কাহিনী আরো গভীর হয়। একবারের জন্যও আপনি অনুমান করতে পারবেন না এর পরে কি ঘটতে যাচ্ছে। সত্যিকারের থ্রিল দিয়ে গেলো থ্রিলার সিরিজটা। এমনকি সিজন ২ এর শেষে পর্বে এসেও একটা চমক রেখে শেষ হয় সিরিজটা। আসলেও কি নিউক্লিয়ার থ্রেট থেকে বের হতে পেরেছে মুম্বাই?

মিউজিক, চিত্রায়ন, ডায়লগ সব কিছুই অসাধারন মুন্সিয়ানার সাথে করা। ন্যুডিটি আছে, ভালগার ডায়লগ হরহামেশাই, আর রক্তপাত তো আছেই। ১৮+ টিভি সিরিজ পরিবারের সাথে দেখতে তাই সাবধান।

Leave a Reply