Robin Hood (2018) মুভি রিভিউ
  • সিনেমেটোগ্রাফী
  • মিউজিক
  • অভিনয়
  • কাহিনী
  • চরিত্র
3.4

Robin Hood (2018)ঃ এক আধুনিক রবিনহুডের গল্প।

এই ছবিতে কোন গল্প নাই। রবিনহুডের গল্প আমরা সবাই জানি। কাহিনীতে নতুনত্ব আনার জন্য রবিন হুডের গল্পকে ঘষা মাজা করে এমন এক জগা খিচুড়ি বানানো হয়েছে যা না দেখলেও আপনার আফসোস হবে না।

একশন অনেক ভালো কিন্তু দেখলেই কেন জানি The Arrow মুভির কথা মনে পড়ে যায়।  রবিনহুডের মূল গল্পের যে ধারা টিভি আর সিরিয়ালে ছিল তার বাইরে গিয়ে অনেক কিছু নতুন সংযোজন করা হয়েছে এখানে।

ছবির গল্পের সময়কালে যে ধরনের অস্ত্র, ঢাল এবং পোষাক ব্যবহার করার কথা তার থোড়াই কেয়ার করা হয়েছে। এককথায় একটা আধুনিক হলিউডি রবিনহুড।

Robin Hood (2018) মুভি রিভিউ

রবিনহুড নিয়ে এই পর্যন্ত অনেক মুভি, টিভি সিরিজ আর কার্টুন বানানো হয়েছে। প্রায় ৬০০ বছর ধরে ইংল্যান্ডের এই এক উপকথা মাতিয়ে রেখেছে সারা পৃথিবীর মানুষকে।

নানা সময় নানান ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে রবিনহুডের চরিত্রকে। রবিনহুড এর গল্পকেও বিভিন্ন দেশে উপস্থাপন করা হয়েছে বিভিন্নভাবে। যদিও আজ পর্যন্ত প্রমান করা যায়নি আসলেও রবিনহুড বলতে কেউ ছিল কিনা। কিংবা, কোন সত্যিকারের হিরোর আদলে গড়ে তোলা হয়েছিল কিনা ইতিহাসের এই চরিত্রকে?

তারপরও যুগের পর যুগ রবিনহুডের গল্প ছড়িয়ে যাচ্ছে দেশ থেকে দেশান্তরে। অসৎ ধনীদের টাকা লুট করে যে হিরো বিলিয়ে দিত গরীবদের মাঝে।

সর্বশেষ রবিনহুড মুভি বেরিয়েছে নভেম্বর ২০১৮ তে, সামিট এন্টারটেইনমেন্ট এর ব্যানারে।

Robin Hood (2018) মুভি নিয়ে কিছু কথা বলা যাক। এইখানেও গল্প খুব বেশি মূল কাহিনী ধরে আগায়নি। অনেক শাখা প্রশাখা আর তার আধুনিক হলিউডি চিত্রায়ন চলেছে। কোন ভাবেই এই ছবিকে রবিনহুডের মূল গল্পের ছায়া বলা যাবে না।

Robin Hood (2018) তে বিশেষ ভাবে চোখে পড়বে ক্রসেড এ রবিন অব লক্সলি এর অংশগ্রহন, যেখান থেকে এই ছবি শুরু হয়। ক্রসেড থেকে ফিরে সে নটিংহ্যাম এর শেরিফ এর অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে।

গল্প এইটুকু হলেও ভালো ছিল, কিন্তু এর সাথে জড়ানো হয়েছে গির্জা, পোপ এবং ক্রসেড থেকে ফিরে আসা রবিনহুডের আরেক যোদ্ধা সাথীকে।

সেই সাথে রয়েছে রবিনহুডের চিরশত্রু শেরিফ অব নটিংহ্যাম।

সবকিছু মিলিয়ে রবিনহুডের নাম পাওয়া গেলেও আশি কিংবা নব্বই দশকের বাচ্চারা যেই আমেজে রবিনহুড দেখেছে এইখানে তা পুরোই অনুপস্থিত।

সেই শেরউড জঙ্গল নেই, নেই রবিনহুড আর তার ছোট সেই দুধর্ষ দল যারা শেরিফের আর প্রিন্স জনের মালামাল লুট করে বেড়াত।

যা দেখতে পাবেন তা অনেকটা হলিউডের রবিনহুড ভার্সন। জেমি ফক্স কে এখানে দেখে চমকে যাবেন না। যদিও মধ্যযুগের ইংল্যান্ডে একজন কালো লোক বিনা দ্বিধায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এটা মানতে অনেকেরই কষ্ট হবে।

তার উপর একশন দৃশ্যগুলো দেখলে আপনার মনে হবে আপনি আসলে Arrow মুভির একটা পার্ট দেখতে পারছেন।

মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডে আধুনিক চকচকে ঢাল তলোয়ার এবং গল্পের মা বাপ এক করে দিয়ে এক বিশাল জগা খিচুড়ি বানানোর জন্য এত টাকা খরচ করাটাই আমার কাছে অনর্থক লেগেছে।

এই রবিনহুড মুভি আসলে আমি ২০৭৭ সালে দেখলে বলতে পারতাম, মুভি ভালো হয়েছে ঃ)।

এখন শুধুই হতাশা।

লেখালেখির শুরু সেই স্কুলে থাকতেই। তখন বিভিন্ন দেয়ালিকা আর কিশোর পত্রিকায় নিয়মিত লিখতাম। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার ফেরা লেখালেখিতে। মূদ্রনে ভীষন অনীহা আমার। প্রযুক্তি সেই সুবিধা দিয়েছে আমাকে। প্রযুক্তি প্রেমিক বলে আমার লেখায় বারবার চলে আসে এই বিষয়গুলো। আমার সাহিত্য ভাবনা, ঘোরাঘুরি আর কিছু ছবি নিয়ে। একদম সাদামাটা একজন মানুষের মনের কোনে কি উঁকি দেয়?

Leave a Reply