পিহু (২০১৮) মুভি রিভিউ
  • অভিনয়
  • কাহিনী
  • মিউজিক
  • সিনেমেটোগ্রাফী
4.3

পিহু - মস্তিষ্কে বেদানা উদ্রেকদায়ী গল্প

পরিচালক যে গল্প বলতে চেয়েছেন তা বলতে পেরেছেন, যে মেসেজ দিতে চেয়েছেন তার থেকে বেশি আমরা শংকিত হয়েছি। খুব ভালো লাগে যখন এই ধরনের গল্প এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়। আমরা ধরেই নিই ছবির শেষে কি ঘটতে যাচ্ছে বা অবসম্ভাবী, তারপরেও আগ্রহ নিয়ে প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করি টানটান উত্তেজনায়।

সত্য ঘটনা অবলম্বনে করা ছবিগুলো আসলে জীবনের কথা বলে। আমাদের নতুন করে প্রেরনা দেয় ভালোবাসার আর ভালো থাকার চেষ্টা করতে। আমরা পিহুর সাদামাঠা কাহিনী কিন্তু এর ভেতর থেকে ফুটে ওঠা জীবনের যে গল্প আছে তাতে বুঁদ হয়ে থাকতে চাই। জীবন কত সুন্দর, কতভাবে তা উপভোগ করা যায়, পিহু আপনাকে তা আবার ভাবতে বাধ্য করবে।

পিহুর মেটাফোরের আড়ালে এই ছবি আমাদের বর্তমানের টুকরো জীবনের কথা বলে।

Pihu (2018) মুভি রিভিউ

মুভি দেখলেই তার রিভিউ করতে হবে এই বিশ্বাস আমার নাই। কত শত মুভি দেখা হয়ে যায় কিন্তু সেগুলো কোনটা নিয়ে লেখা হয়ে ওঠে না, ইছে করে না, মাঝে মাঝে ভুলে যাই।

Pihu (2018) দেখার পর থেকে মাথায় খালি বেদনা হচ্ছে। কে যেন বারবার খোঁচাচ্ছে। বলছে, কি হল লিখলি না? ভুলে যেতে চাস? এরকম হয় না বা হবে না বলতে চাস?

লিখছি… সেই জ্বালা থেকেই। এই মুভি সম্পুর্ন নিজ দায়িত্বে দেখবেন। অত্যন্ত পারিবারিক ছবি, কিন্তু যাদের আবেগ বেশি তাদের না দেখাই ভালো।

মুভির বর্ননা মতে এটা একটা সত্যি ঘটানার ছায়া অবলম্বনে বানানো। কিন্তু আমি মনে প্রানে চাই এই ধরনের ঘটনা না ঘটুক। কারো জীবনে না আসুক আর এই ধরনের মুভিও আর না বানানো হোক।

ছবির পুরোটা সময় জুড়ে আপনার মন খারাপ থাকবে। পরিচালকের আর নির্মাতার স্বার্থকতা এখানেই বোধহয়।

কাহিনী সংক্ষেপঃ 

সত্যি মিথ্যা জানি না, এই ছবির গল্প অনবরত মস্তিষ্কে বেদনা দেবে। দুই বছরের এক বাচ্চা ঘুম থেকে জেগে ওঠা দিয়ে গল্প শুরু হয়। বিছানায় তার মা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। এই বাচ্চার নাম পিহু। পিহু বারবার তার মাকে জাগানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে। সে জানেনা তার মায়ের এই ঘুম আর ভাঙ্গার নয়।

প্রথমেই মনে হবে পিহুর মাকে কেউ খুন করেছে। তারপর এলিমেন্ট অব সারপ্রাইজ হিসেবে দর্শক আবিষ্কার করবে পিহুর মা আসলে আত্মহত্যা করেছে। বাচ্চাটার জন্মদিন মাত্র গতরাতে গিয়েছে আমরা গল্পের একটু দূরে গিয়ে আবিষ্কার করি।

দুরুদুরু মন নিয়ে আপনি অপেক্ষায় থাকবেন এরপর কি হয়, কি হয়। একা ঘরে পিহু ঘুরে বেড়ায় আর খাবার খুঁজতে থাকে, মাকে জাগানোর ব্যর্থ চেষ্টার পর সে নিজের মনে খেলায় মনযোগ দেয়। সারা ঘরে অসংখ্য বিপদজনক উপকরন ছড়ানো।

পিহু কি পারবে একা একা টিকে থাকতে? তার বয়স মাত্র দুই বছর!

আমরা দর্শক হিসেবে উত্তেজনায় প্রতিটা মুহূর্ত, এই বুঝি পিহুর যাত্রারও শেষ ঘনিয়ে আসে। পরিচালক স্বার্থক এই ছবিতে। একটা দুই বছরের বাচ্চার মনোজগত, সম্পর্কের টানাপোড়ন আর আশেপাশের প্রতিবেশ কি নিখুঁত ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন এই ছবিতে।

কাহিনীর কিছু অস্পষ্টতা আর ছন্নছাড়া ভাব বাদ দিলে সাধারন গল্পের অসাধারন উপস্থাপনের চেষ্টাটা টের পাওয়া যায়।

অতি অল্প কিছু সংলাপ যার বেশিরভাগই আপনাকে সাহায্য করবে গল্প নিজের মত করে বুঝে নিতে। কখনো আপনি পিহুর মাকে দোষ দেবেন এই অবিবেচকের মত কাজ করাতে, কখনো তার বাবাকে আবার কখনো প্রতিবেশিদেরকে। তারপরই আপনার যোক্তিক মন আবার ফিরে আসবে পিহুর কাছে।

যে মেসেজ লেখক এবং পরিচালক দিতে চেয়েছেন তাতে তারা চরমভাবে সফল এবং এইরকম ছবি আমাদের বেশ ভালো ভাবে নাড়া দিতে সক্ষম।

লেখালেখির শুরু সেই স্কুলে থাকতেই। তখন বিভিন্ন দেয়ালিকা আর কিশোর পত্রিকায় নিয়মিত লিখতাম। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার ফেরা লেখালেখিতে। মূদ্রনে ভীষন অনীহা আমার। প্রযুক্তি সেই সুবিধা দিয়েছে আমাকে। প্রযুক্তি প্রেমিক বলে আমার লেখায় বারবার চলে আসে এই বিষয়গুলো। আমার সাহিত্য ভাবনা, ঘোরাঘুরি আর কিছু ছবি নিয়ে। একদম সাদামাটা একজন মানুষের মনের কোনে কি উঁকি দেয়?

Leave a Reply