মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট রিনিউ বা রি-ইস্যু করবেন যেভাবে

পাসপোর্ট নিয়ে ঝামেলায় পড়েননি এরকম বাঙ্গালী খুঁজে পাওয়া দুস্কর। আমাদের সেবার মান যেমন ভালো নয়, তেমনি আছে দালালের দৌরাত্ব। কিছুদিন কম থাকলেও নানা অজহাতে আবার শুরু হয়ে যায় দালালী। যারা নতুন পাসপোর্ট করতে যাবেন খুব সাম্প্রতিক তারা দেখবেন কি পরিমানে অচলাবস্থা সব পাসপোর্ট অফিসগুলোতে।

ঢাকাতে কিছু কম হলেও বেশ কজন বন্ধু মারফত জেনেছি বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসগুলো এখনো পড়ে আছে দালালীর চক্করে।

যাই হোক এত দুর্নাম করে লাভ নেই। ঝটপট করে বলে ফেলা যাক কিভাবে আপনার মেশিন রিডেবল পাসপোর্টটি আবার নবায়ন করবেন।

যারা এখন পাসপোর্ট রিনিউ বা রি-ইস্যু করতে যাচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগেরই মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট হবার কথা। আমার নিজেরও তাই। আমি সেই হিসেবেই লিখছি। কারন মাত্র আমি নিজের পাসপোর্টও রি-ইস্যুর জন্য দিলাম। পাঁচ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট আর মাত্র একমাসের ভ্যালিডিটি ছিল।

আগের সেই ম্যানুয়াল সিস্টেমের থেকে আমাদের পাসপোর্ট অফিস অনেকদুর এগিয়েছে।

অনলাইনে খুব সহজেই আপনা টাকা জমা দিতে পারবেন এবং ফর্মও পুরন করতে পারবেন।

মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট রিনিউ বা রি-ইস্যু করবেন যেভাবে 1

রিনিউ বা রি-ইস্যু করবেন কিভাবে?

প্রথমেই অনলাইন থেকে রি-ইস্যুর ফর্মটি ডাউনলোড করে নিন। এই লিঙ্কে গেলএই পাবেনঃ passport.gov.bd। এটা হল DIP ফর্ম-২। আপনার যদি স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করার কোন দরকার না হয় তবে এই একটা ফর্মেই আপনার হয়ে যাবে।

ফর্মটি পূরন করুন। ইন্সট্রাকশন দেয়া আছে। আপনার পাসপোর্টের যেরকম তথ্য আছে সেই অনুযায়ী করবেন।

এই ফর্মের সাথে কি কি জমা দেবেন?

০১। পুরাতন পাসপোর্টের সাথে যে পাতায় আপনার ইনফর্মেশন আছে সেই পাতার ফটোকপি।

০২। ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ফটোকপি।

০৩। যদি ঠিকানা পরিবর্তন করতে চান, বা নামের বানান বা অন্য কিছু তাহলে তার স্বপক্ষে প্রমান। যদিও বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন এর জন্য কিছু লাগে না।

০৪। ব্যাঙ্ক পেমেন্ট যে করেছেন তার মানি রিসিট।

 

ব্যাস এই লাগবে আপনার। এরপর সাবমিট করতে চলে যান পাসপোর্ট অফিসে। সিরিয়াল ধরে জমা দিন নিয়ম মেনে। রিসিট নিয়ে চলে আসুন।

আপনার ছবি এবং স্বাক্ষর পরিবর্তন করতে পারবেন চাইলে এই সময়। ফর্ম জমা দেয়ার সময় আপনার কাছে জানতে চাইবে আপনি নতুন করে ছবি তুলতে চান কিনা। বলে দিন হ্যাঁ। কারন অনেক সময় ভিসা প্রাপ্তিতে ঝামেলা হয় এই ছবির কারনে। আর পাঁচ বছর অনেক লম্বা সময়। মানুষের চেহারা পরিবর্তন হতেই পারে।

যদি পেশা, বা অন্য কোন পরিবর্তন থাকে তবে তা ডিআইপি ফর্ম-২ এর নিচের দিকে সংশোধনের ঘরে লিখতে ভুলবেন না। আগেই বলেছি বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন করতে তেমন কোন সমস্যা নেই। আপনার শুধু আবার পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে।

মূল পাসপোর্ট সাথে রাখতে ভুলবেন না যেন।

রি-ইস্যুর ফর্ম সত্যায়িত করার দরকার নেই।

 

স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করতে হলে কি করব?

স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করতে গেলে আপনাকে একটু ঝামেলা পোহাতে হবে। সেক্ষেত্রে DIP-1 ফর্মটি আবার ফিলাপ করতে হবে। এর ২ কপি লাগবে আপনার। এবং এটি সত্যায়িত করতে হবে নতুন পাসপোর্ট করার সময় যেভাবে করেছিলেন ঠিক একই ভাবে।

এর সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতেও ভুলবেন না। সেগুলোও সত্যায়িত করতে হবে।

সেই সাথে রি-ইস্যুর ফর্ম ও লাগবে আপনার ২ কপি। একইভাবে পূরন করে নিন প্রথম ধাপে যেটা বলেছি। এই ফর্ম সত্যায়িত করার দরকার নেই।

আমার নিজের স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করতে হয়েছে বলেই এত ঝামেলা আমাকেও করতে হয়েছে।

 

যারা স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করবেন রি-ইস্যুর সময় তারা প্রথমে অনলাইনে ডি আই পি – ১ ফর্ম ফিলাপ করে নেবেন।

চাইলে অনলাইনে পেমেন্ট করতে পারেন। অপশন পাবেন ফর্ম ফিলাপ করার সময়। ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে করতে পারবেন। আমি ব্রাক ব্যাঙ্কের ডেবিট কার্ড দিয়ে করেছিলাম ৩৪৫০ টাকা। আপনার মেইলে রিসিট চলে আসবে এবং এটা প্রিন্ট আউট করে ফর্মের সাথে জমা দিতে পারবেন।

আর চাইলে ব্যাঙ্কে গিয়েও আগে পেমেন্ট করে রিসিট নিয়ে, পরে অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ করতে পারেন। কারন ফর্ম ফিলাপ করার সময় পেমেন্ট করার ডাটা চাইবে।

আবার আপনি চাইলে এই অংশটা হাতেও ফিলাপ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে জমা দেয়ার সময় পেমেন্ট ইনফরমেশন ফর্মে লিখে দেবেন।

ডিআইপি-১ ফিলাপ করা এবং পেমেন্ট দেয়া হয়ে গেলে ডিআইপি -২ ডাউনলোড করে হাতে ফিলাপ করুন। ২ কপি একই রকম ভাবে। এটি অনলাইনে পূরন করার কোন অপশন আমি দেখিনি। যদিও এটি মাত্র এক পাতার একটি ফর্ম।

এরপর ডিআইপি-১ এর ২ কপি প্রিন্ট করে (একই কাগজের উভয় দিকেই করতে হবে) সব কাগজ পত্র আর ছবি সহ জমা দিন। এই ফর্ম কিন্তু সত্যায়িত করতে হবে।

যদি ফর্ম খালি কাগজের একপাশেই প্রিন্ট করেন তবে জমা নেবে না। আর পাসপোর্ট অফিসের ফটোকপি মেশিন এর ব্যাবসা যারা করে তারা অনেকটা ডাকাত টাইপের। পকেট কাটতে ওস্তাদ।

সকল ফর্ম অনলাইনে ফ্রিতে এবং পাসপোর্ট অফিসেও ফ্রিতে পাবেন। দালালের সাহায্য নেবার কোন দরকার নাই। নিজের কাজ নিজেই করুন।

 

কাগজ পত্র সব জমা দেয়া হয়ে গেলে আপনাকে যেই রিসিট দেবে সেটা ভালোভাবে দেখে নিন। কোন ভূল থাকলে সাথে সাথেই জানান।

ভুল না থাকলে বাসায় চলে আসুন। এবার অপেক্ষার পালা।

পাসপোর্ট হয়ে গেলে মোবাইলে মেসেজ পাবেন। পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্যও আপনাকে ফোন দেয়া হবে।

আপনার পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা এসএমএস করে জানতে পারেন MRP<space>Enrollment ID দিয়ে ৬৯৬৯ নাম্বারে এসএমএস করে।

অনালাইনেও চেক করতে পারবেনঃ http://passport.gov.bd/OnlineStatus.aspx এই লিঙ্ক থেকে।

 

আপনার পাসপোর্ট যদি Printing এ থাকে তবে অনলাইনে চেক করলে Pending for Passport Personalisation দেখাবে। প্রিন্টিং এ এখন অনেক সময় লেগে যাচ্ছে কিছু মেশিন নষ্ট থাকার কারনে।

মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট রিনিউ বা রি-ইস্যু করবেন যেভাবে 2

কিছু জানার থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। চেষ্টা করব উত্তর দেবার জন্য।

Leave a Reply