Contact (1997) মুভি রিভিউ
  • গল্প
  • অভিনয়
  • গ্রাফিক্স
  • চরিত্র
  • মিউজিক
  • সিনেমেটোগ্রাফি
4.2

বিজ্ঞান, ধর্ম এবং রাজনীতির মিশেলে করা এক অনন্য সাধারন ফিকশন।

যদি ১০ টা বিখ্যাত সাই-ফাই মুভির নাম বলতে হয় আমাকে তবে আমি অবশ্যই “Contact” মুভির নাম বলব। বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের যে টানাপোড়ন আর তাতে পলিটিকাল যে জগাখিচুড়ি পাকায় সব সময় তার একটা পরিষ্কার উপস্থাপন দেখবেন এই ছবিতে।

সেই সাথে এটাও ধারনা দেয়া হয়েছে, পৃথিবীর বাইরের কোন বুদ্ধিমান প্রানের সাথে যোগাযোগ হলে আমাদের পদক্ষেপ কি রকম হওয়া উচিত।

ছবির নামঃ Contact
মুক্তিঃ জুলাই ১১, ১৯৯৭ (USA)
ডিরেক্টরঃ রবার্ট জেমেকিস
গল্পঃ কার্ল সেগান, এন ড্রয়ান

এই ছবিটি সাই-ফাই ভক্তদের মনে দাগ কেটে যাবার কথা। ১৯৯৭ সালের ছবি। যারা এখনও এই ছবি দেখেননি তাদের জন্য একরাশ সমবেদনা।

কার্ল সাগানের গল্প অবলম্বনে করা হয়েছে এই ছবিটি। ছবিতে বিজ্ঞানের সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে পলিটিক্স এবং ধর্ম বিশ্বাসকে। আর কোন সাই-ফাই মুভিতে এমনটা সচরাচর দেখতে পাবেন না।

ছবির গল্প নায়িকা প্রধান। ছবিতে প্রধান চরিত্রে দেখা যায় রেডিও এস্ট্রোনমার এলিনর অরওয়েকে। এলিনরের ভুমিকায় অভিনয় করেছেন জুডি ফস্টার। এলিনর একজন জোতির্বিদ এবং এথিস্ট। ঈশ্বরে বিশ্বাস না করার তার প্রধান কারন হল ঈশ্বর সম্পর্কে মানুষের কাছে পর্যাপ্ত ডাটা নেই।

কিন্তু সে প্রেমে পড়ে একজন ঈশ্বর বিশ্বাসী মানুষ পালমার এর। এইখানে সম্পর্কের একটা টানাপোড়ন রয়েই যায়।

পলিটিকাল ঝামেলায় যখন এলিনর তার প্রজেক্ট হারায় এবং ফান্ডিং প্রায় বন্ধ হয়ে যাবার জোগাড় তখন সে মরিয়া হয়ে ওঠে। ঠিক এই সময়েই গল্পের মোড় ঘুরে যায়।

মহাকাশ থেকে এলিনর রিসিভ করে রেডিও সিগনাল। এর মাঝেই লুকিয়ে থাকা তথ্য উদ্ধার করে দেখা যায় এলিয়েনরা মানুষকে যোগাযোগের জন্য একটা যন্ত্র বানাতে বলছে।

পলিটিক্সের কদর্য চেহারাটা আর তার প্রয়োজনীয়তাও এখানে বেশ ভালো ভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।

ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের যে দ্বন্দ তা মূল বইয়ে এত স্থুলভাবে উপস্থাপন না করা হলেও, ছবিতে তা বারবারই উঠে এসেছে। এবং শেষ পর্যন্ত বলতে চাওয়া হয়েছে ধর্ম এবং বিজ্ঞান উভয়েরই লক্ষ হল সত্য খুঁজে বের করা।

এক কথায় বলা যায়, এ শতাব্দীর সেরা সাই-ফাই মুভির তালিকা করা হলে “Contact” মুভিটি উপরের দিকেই থাকবে।

কার্ল সেগান একজন স্বপ্ন দ্রষ্টা ছিলেন, তার গল্পে শুধু বিজ্ঞানই ফুটে ওঠেনি। সাথে এসেছে সমাজের ৯০ ভাগ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার কথাও।

লেখালেখির শুরু সেই স্কুলে থাকতেই। তখন বিভিন্ন দেয়ালিকা আর কিশোর পত্রিকায় নিয়মিত লিখতাম। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার ফেরা লেখালেখিতে। মূদ্রনে ভীষন অনীহা আমার। প্রযুক্তি সেই সুবিধা দিয়েছে আমাকে। প্রযুক্তি প্রেমিক বলে আমার লেখায় বারবার চলে আসে এই বিষয়গুলো। আমার সাহিত্য ভাবনা, ঘোরাঘুরি আর কিছু ছবি নিয়ে। একদম সাদামাটা একজন মানুষের মনের কোনে কি উঁকি দেয়?

Leave a Reply