সাই-ফি মুভির জামানা চলে অনেক দশক ধরে। এর মধ্যে কত শত মুভি যে বানানো হয়েছে তার ইয়ত্তা নাই। আজকে আমি এরকমই কিছু সাই-ফাই মুভির কথা বলতে যাচ্ছি। এগুলোর বেশিরভাগই খুব বেশি নাম করেনি, কিন্তু এদের মূল গল্প প্রচুর ভালো মানের ছিল।

সেরা ১০ সায়েন্স ফিকশন মুভি

সেরা জিনিসটা বাছাই করাটাই একটা যক্কি। কারন সবার পছন্দ এক হয় না। আবার সব মুভির আবেদন সবকালে থাকেও না। তবে সত্যিকারের মুভি লাভারদের কাছে এই মুভিগুলো সোনালি অতীতের মত। যেমন আশির দশকের The Terminator (1984) এক অনবদ্য সাই-ফাই মুভি যা আমাদের এখনো ভালো লাগে। চলুন দেখে নেয়া যাক সেরা ১০ এর তালিকা। এই তালিকা কোন ক্রমানুসারে সাজাইনি আমি। যখন যেটা মনে এসেছে লিখে গেছি।

০১. eXistenZ (1999)

এই মুভি খুবই অদ্ভুত একটা পরিবেশ নিয়ে শুরু হয়। পুরো মুভিতে আপনি স্পেশাল ইফেক্টের ব্যবহার তেমন একটা দেখতে পাবেন না। আর যেগুলো আছে তা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে চোখে না পড়ে।

পৃথিবীর সেরা ভার্চুয়াল গেইম ডিজাইনার তার নতুন গেইমের ওপেনিং অনুষ্ঠানে আক্রমনের শিকার হয়। সে একজন মার্কেটিং ট্রেইনিকে নিয়ে জীবন বাঁচাতে পালাতে থাকে। ছবি শুরু হয় এখান থেকে।

ছবিতে প্রচুর পরিমানে গ্রাফিক ভায়োলেন্স আছে এবং এই ছবির পরিচালক David Cronenberg এই কারনেই বিখ্যাত। তার ছবিতে প্রচুর ভায়োলেন্স থাকে।

তবে যারা ম্যাট্রিক্স গ্রেডের ভিসুয়াল ইফেক্ট দেখার জন্য এই মুভি দেখতে যাবেন তারা হতাশ হবেন। এই ছবি এগিয়েছে নায়ক আর নায়িকার মধ্যকার রসায়ন আর ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেইমের নানা দিক উপজীব্য করে।

০২. Journey to the Far Side of the Sun (1969)

১৯৬৯ এর মুভি। সায়েন্স-ফিকশন বানানোটা তখন অনেক কষ্টকর ছিল। শুধু কন্সেপ্টের উপর ভিত্তি করে ছবি বানাতে হত। কিন্তু সাই-ফাই লাভারদের কাছে এই মুভিটাও স্মরনীয় হয়ে থাকবে।

পৃথিবীর কক্ষপথে ঠিক আমাদেরই মত আরেকটা গ্রহের অস্তিত্ব খুঁজে পায় ইউরোপিয়ান স্পেস এক্সপ্লোরেশন কাউন্সিল। কিন্তু গ্রহটা পৃথিবীর ঠিক বিপরীত দিকে সূর্যের অপরদিকে থাকায় আমরা এতদিন দেখতে পাই নি।

কাউন্সিল ঠিক করে এই পৃথীবীর মত দেখতে গ্রহটিতে নভোযান পাঠাবে। দু-জন এস্ট্রোনটকে পাঠানো হয় এবং তারা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ করে তারা আবার পৃথিবীতেই ফেরত এসেছে। নানা ঘটনার পরে তারা জানতে পারে অপর গ্রহটা আসলে আমাদের পৃথিবীরই মিরর ইমেজের মত।

কাহিনিটা ভাবার মত এবং রিমেক করলে হয় চমৎকার একটা কন্সেপ্টে গ্রাফিক্স সমৃদ্ধ চলচ্চিত্র আমরা দেখতে পারতাম।

০৩. Primer (2004)

অত্যন্ত কম বাজেট নিয়ে করা একটা সাইফ-ফাই মুভি Primer (2004)। চার বন্ধু মিলে ইঞ্জিনিয়ারিং যন্ত্রপাতির ভুল চেক করার যন্ত্র বানিয়ে বিক্রি করবে। এটা তাদের চাকরির বাইরের কাজ। কিন্ত্য ঘটনাক্রমে তারা একটা টাইমে মেশিন আবিষ্কার করে বসে।

মূলত ব্যক্তি জীবনের উপর টাইমে মেশিন কি প্রভাব ফেলেছে সেটাই এই ছবির মূল বিষয়। মূল কাহিনীতে ভালো কিছু টুইস্ট রয়েছে না বুদ্ধিমান দর্শক দেখে মজা পাবেন

০৪. Predestination (2014)

যেই কন্সেপ্ট নিয়ে এই মুভি করা হয়েছে তাতে একশন, প্লট টুইস্ট, টানটান উত্তেজন সব আছে। একজন সাইফাই লাভারের জন্য অসাধারন মুভি এটি।

ছবিতে একজন টাইম কপ (সময় পুলিশ) বিভিন্ন সময়ে ট্রাভেল করে একজন ক্রিমিনালকে খুঁজে বেড়ায়। এই ক্রিমিনাল আবার বোমা আক্রমন করে সময়ের সামনে আর পেছনে গিয়ে।

অনেক মাইন্ড-বেন্ডিং এলিমেন্ট আছে এই ছবিতে। মনযোগ দিয়ে না দেখতে পারলে অনেক কিছু এড়িয়ে যেতে পারে চোখের সামনে থেকে। টাইম ট্রাভেল আর ইনফিনিটি লুপ কিভাবে ব্যবহার করা হয়েছে তার অসাধারন উধাহরন এই ছবি।


০৫. Moon (2009)

স্যাম নামের একজন এস্ট্রনটকে চাঁদে পাঠানো হয় তিন বছরের জন্য। তার কন্ট্রাক্টে সে একাই কাজ করবে লুনার বেইসে। তার কাজ হোল পৃথিবীতে হিলিয়াম-৩ এর চালান পাঠানো চাঁদ থেকে।

এই ফুয়েল ক্লিন এনার্জি হিসেবে পৃথিবীতে ব্যবহার করা হয়। তার চাঁদের বেইস এবং পৃথিবীর সাথে সরাসরি যোগাযোগের কোন উপায় নেই। তার সাথী একমাত্র GERTY, একটা কম্পিউটার। GERTY কাজ হল দৈনন্দিন কাজে স্যামকে সাহায্য করা।

স্যামের তিন বছরের চন্দ্র জীবন বোরিং লাগা শুরু হয় এবং যেকোন মূল্যে সে আবার পৃথিবীতে তার স্ত্রী-সন্তানের কাছে ফিরে যেতে চায়।

কিন্তু যখন তার কন্ট্রাক্ট শেষ হবার আর মাত্র ২ সপ্তাহ বাকি থাকে তখনই সে একটা দূর্ঘটনার শিকার হয়।

০৬. Pandorum (2009)

প্রচুর হরর এলিমেন্ট থাকার পরেও এটা বেশ সফল একটা সাইফাই মুভি। দুজন এস্ট্রোনট একটা আপদত দৃষ্টিতে পরিত্যাক্ত স্পেসশীপে হাইপার স্লীপ থেকে জেগে ওঠে। তারা তাদের কলিগদের খুঁজে পায় না। কিন্তু একটু পরেই তারা আবিষ্কার করে তারা আসলে একা নয়। কিছু একটা রয়েছে স্পেসশীপে যেটা তাদের তাড়া করে বেড়ায়।

এই মুভির শেষটা হয় খুব অসাধারন একটা টুইস্ট দিয়ে। ভালো লাগার মত একটা সাইফাই হরর মুভি।

০৭. The Quiet Earth (1985)

ঘুম থেকে জেগে উঠে নিজেকে পৃথিবীতে একা আবিষ্কার করে একজন মানুষ। এরপর সে আরো কেউ আছে কিনা তা খুঁজতে থাকে। শেষ পর্যন্ত পেয়েও যায়। তাদের ধারনা কোন বিজ্ঞান গবেষনার ভূলের স্বীকার তারা।

শেষ পর্যন্ত তারা জানতে পারে পৃথিবীতে তাদের একা থেকে যাওয়ার কাহিনী কি।

০৮. The Man From Earth (2007)

এই মুভিকে ঠিক সায়েন্স ফিকশন বলা যাবে না। বলা যায় থিওরেটিকাল একটা বকতৃতা। একজন বিদায়ী প্রফেসর তার বাসায় আসা বাকি প্রফেসরদের জানান তিনি ১৪০০০ বছর ধরে বেঁচে আছেন। পুরো ছবিটা মোটামুটি একটা রুমের মাঝে শেষ করা হয়েছে। অসাধারন এর স্ক্রীপ্ট এবং ডায়লগ ডেলিভারি। আমার দেখা সেরা মুভিগুলোর একটা।

০৯. Total Recall (1990)

আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারে মুভি। বেশ নাম করেছিল সে সময়। গল্পে ডগলাস এর মনে হয় সে আসলে একজন সিক্রেট এজেন্ট এবং মঙ্গল গ্রহে সে গিয়েছিল। কিন্তু কোন ভাবে সে মনে করতে পারছিল না আসলে কি ঘটেছিল। এই জন্য সে Rekall Inc. নামে একটা কোম্পানির দ্বারস্থ হয় যারা ফেইক মেমোরি ইমপ্লান্ট করত।

এইখান থেকেই যত জটিলতার শুরু। মুভির শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা আর একশন আছে। দর্শক প্লটের টুইস্ট দেখে মজা পাবেন।

এই মুভির আরেকটা রিমেক হয়েছিল ২০১২ তে সেটাই অসাধারন সাই-ফাই একশন মুভি। আধুনিক এনিমেশন আর একশন দৃশ্য

১০. I, Robot (2004)

২০৩৫ সালের দিকে মানুষ তার গৃহস্থালী কাজে রোবটের ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে। সারা পৃথিবীতে রোবটিক্স এর জয়জয়কার। কিন্তু এক টেকনোফোবিক ডিটেক্টিভ রোবটে বিশ্বাস করে না। সে রোবটের একটা খুন তদন্তে নেমে জড়িয়ে যাই অসম এক যুদ্ধে। Will Smith এর অসাধারন অভিনয় আর মৌলিক গল্পের এই ছবিটি এখনো অনেকের মনে দাগ কাটবে।

এই সেরা দশ বাদেও আরো ভালো অনেক সাইফাই মুভি আছে যারা শুধু গল্পে নয়, অভিনয় প্রতিভাতেও আরো একশ বছর টিকে থাকবে। আমি এখানে Matrix, Terminator, Star Wars, Star Trek ইত্যাদি মুভির নাম বলিনি। কারন এগুলো বহুল আলোচিত।

বলুন দেখি আপনার দেখা সেরা সায়েন্স ফিকশন মুভি কোনটা?

লেখালেখির শুরু সেই স্কুলে থাকতেই। তখন বিভিন্ন দেয়ালিকা আর কিশোর পত্রিকায় নিয়মিত লিখতাম। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার ফেরা লেখালেখিতে। মূদ্রনে ভীষন অনীহা আমার। প্রযুক্তি সেই সুবিধা দিয়েছে আমাকে। প্রযুক্তি প্রেমিক বলে আমার লেখায় বারবার চলে আসে এই বিষয়গুলো। আমার সাহিত্য ভাবনা, ঘোরাঘুরি আর কিছু ছবি নিয়ে। একদম সাদামাটা একজন মানুষের মনের কোনে কি উঁকি দেয়?

Leave a Reply