Attraction (2017) – যে রাশিয়ান সাইফাই মুভি না দেখলেই নয়

Attraction (2017) - সায়েন্স ফিকশন মুভি রিভিউ
  • অভিনয়
  • কাহিনী
  • গ্রাফিক্স
  • চরিত্র
4.6

Attraction (2017) - সায়েন্স ফিকশন মুভি রিভিউ

সায়েন্স ফিকশন মুভি যে খালি আমেরিকার হলিউড বানাতে পারে তা কিন্তু নয়। পর্যাপ্ত সময় থাকলে আর মনযোগ দিলে রাশিয়ানরাও যেকোন দিন হলিউডকে টেক্কা দিয়ে দেবে।

কাজ করতে করতে মাঝে মাঝে যখন অনেক বোর ফিল করি, কিংবা জটিল কোন গল্পের প্লট বা একটা কবিতা মাথায় গিটটু পাকিয়ে যায়, তখন অহেতুক যেকোন একটা মুভি দেখতে বসি। Attraction (2017) হোল সেই রকম একটা মুভি।

আমি সায়েন্স ফিকশন মুভির চরম ভক্ত হলেও কখনো আজে বাজে মুভি দেখে টাইম নষ্ট করি না। আর মার্কেটে রাশিয়ান সায়েন্স ফিকশন কয়টা আছে তাও জানি না। হটাতই আবিষ্কার এই ছবি।

এই মুভিটা দেখতে বসে আমার বারবার প্রিয় লেখক আইজাক আসিমভের কথা মনে হয়েছে। তার গল্পে যেমন অন্যরকম একটা অনুভুতি ছিল, খুব রিলাক্স ভাবে কাহিনীর একটার পর একটা সুতা বুনেছেন, তেমনি হল এই ছবির চরিত্ররা। মূল গল্পটা খুব ছোট কিন্তু তাদের আবেগ আর অনুভুতিগুলো শাখা প্রশাখা মেলেছে গল্পের শেষ পর্যন্ত।

Attraction (2017) - যে রাশিয়ান সাইফাই মুভি না দেখলেই নয় 1

যারা এতদিন শুধু এলিয়েনদের আমেরিকায় আক্রমন করতে দেখেছেন তারা এবার একটু নড়েচড়ে বসুন। এলিয়েনরা এবার আমেরিকার পবিত্র ভূমিতে নামেনি, নেমেছে রাশিয়ায় ঃ)।

হতাশ হবেন না, Attraction (2017) কোন গৎবাঁধা হলিউডি স্টাইলের মুভি নয়। এই ছবির একটা ভালো গল্প বলার স্টাইল আছে। পরিচালকের অসাধারন কারিশমা আর ক্যামেরার কাজ টের পাবেন প্রথম দৃশ্য থেকেই।

একটা মেয়ে মেঘকালো আকশের নিচে বসে আছে তার কুকুর নিয়ে, এবং ক্যামেরার কাজ দেখে আমার খুব বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছিল আকাশটা ঠিক এরকম কালো আর একাকিই ছিল, কোন গ্রাফিক্সের কাজ নেই এতে। কি অসাধারন শুরু। কেমন যেন একটা শুন্যতাবোধ চলে আসে দেখলেই।

ছবির শুরুর ডায়লগটা অনেকটা এরকম ” তারারা হল, এঞ্জেলদের চোখ। এরা আমাদের দেখাশোনা করে। কিন্তু আমার মা যখন অসুস্থ ছিল এঞ্জেলদের কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি…। তখন আমি বুঝতে পারলাম ওখানে আসলে কেউ নেই। আকাশের বাইরে সব নিথর, প্রানহীন আর ঠান্ডা…।”

আফসোস আমি রাশিয়ান জানিনা। জানলে হয়ত আরো ভালোভাবে অনুভব করতে পারতাম ব্যপারটা।

Attraction (2017) – এর এলিয়েনরা যদিও ইচ্ছাকৃত ভাবে পৃথিবীতে নেমে আসতে চায়নি। তাদের সার্ভে শিপ উল্কাপিন্ডের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে রাশিয়ায় নেমে আসে। নভোযানের বেশ ক্ষয় ক্ষতি হয় এবং মেরামত করা বাদে তাদের আর ওড়ার সামর্থ্য ছিল না। কাহিনী শুরু হয় এখান থেকেই।

হলিউডের মারদাঙ্গা সায়েন্স ফিকশন থেকে একটু মুক্তি মিলবে আপনার এই ছবির মিউজিক শুনে আর গ্রাফিক্স দেখে। স্পেসশীপ দেখতে অনেকটা বিশাল চোখের মত, এখানেও তাদের চমৎকার বুদ্ধির পরিচয় পাওয়া যায়।

মানুষের একটা দলের সাথে তাদের সমস্যা শুরু হয় যখন পানির অভাব পড়ে এলাকায়। কারন পানিই ছিল এলিয়েনদের স্পেসশীপ মেরামতের প্রধান উপকরন। তারপর কেউ একজন স্পেস শীপের একটা জরুরী উড্ডয়ন পার্টস চুরি করে নয়ে যায়। সেটা উদ্ধারে আমদের এলিয়েন হিরোকে সাহায্য করে গল্পের মূল নায়িকা।

পুরো কাহিনী বলে দিলাম না, তাতে আপনার দেখার আগ্রহ কমে যেতে পারে। তবে এটুকে জেনে রাখুন, অনেক কম বাজেটে কিভাবে ভালো একটা সায়েন্স ফিকশন মুভি বানানো যায় Attraction (2017) তার উধাহরন। গল্প আহামরি কিছু না হলেও ছবির মেকিং এ দরদের কমতি ছিল না।

Leave a Reply