Alita: Battle Angel, সাইফাই মুভি রিভিউ
  • কাহিনী
  • চরিত্র
  • গ্রাফিক্স
  • মিউজিক
  • সিনেমেটোগ্রাফী
4.5

Alita: Battle Angel মুভি রিভিউ

বিগ বাজেটের ছবি। 20th Century Fox এর ব্যানারে করা Alita: Battle Angel বেশ ভালো মানের হার্ডকোর সাইফাই একশন মুভি। পুরো ১ ঘন্টা ৫৫ মিনিট এর বিনোদন।

১৯৯০ এ প্রথম বের হওয়া Manga উপন্যাস Battle Angel Alita এবং পরে এনিমেশনে রুপ দেয়া হয় ১৯৯৩ তে, এরপর CG (GUNNM) শর্ট ফিল্ম ও হয় আলিটা কে নিয়ে। স্মৃতি হারিয়ে ফেলা এক সাইবর্গ মেয়ে, সাইবার ক্রিমিনালদের প্রতিহত করতে করতে নিজের অতীত সম্পর্কে জানতে পারে।

এই সকল কিছু মিলিয়েই তৈরি করা হয়েছে ছবিটা। যদিও এই ছবিটা কে আসলে প্রথম পর্ব বলা যায় এবং নিশ্চিত থাকুন বাজেট পেলে এর দ্বিতীয় পর্বও বের হবে।

ছবিতে আবেগের প্রাধান্য দেখাতে গিয়ে আলিটার চরিত্র ঠিকমত দেখানো যায়নি বলেই আমার ধারনা। তারপরেও মনে রাখার মত একটা একশন সাই-ফাই মুভি।

 

Alita: Battle Angel – সাইফাই মুভি রিভিউ

যখনই শুনবেন মুভির পেছনে আছেন জেমস ক্যামেরুন, রবার্ট রড্রিগুয়েজ এবং স্ক্রিনে ভেসে উঠছে 20th Century Fox এর লোগো তখনই ধরে নিতে পারেন আপনার সময়টা দারুন ভালো কাটবে।

AVATAR এর পর অনেক দিন কেটে গিয়েছে, বস লোক জেমস ক্যামেরুন এর নতুন কোন মুভি পাচ্ছিলাম না আমরা। অপেক্ষার পালা ঘুচল, চলে এসেছে হার্ডকোর একশন সাইফাই আলিটাঃ ব্যাটাল এঞ্জেল (Alita: Battle Angle).

নাম শুনেই বোঝা যায় মুভির একশন কেমন হবে। তারপর রবার্ট রড্রিগুয়েজ (Sin City) ডিরেকশন আর জেমস ক্যামেরুন এর প্রোডাকাশন আমাদের আরো নিশ্চিন্ত করেছিল।

প্রায় ছয়মাস আগে এই মুভির ট্রেইলার দেখে অসাধারন লেগেছিল, এরপর দেখার পর প্রডিউসার এবং ডিরেক্টরের উপর আরো ভক্তি বেড়ে গেল।

অসাধারন গ্রাফিক্সের কাজ আর মিউজিক আছে পুরো Alita: Battle Angle মুভিটাতে।

কাহিনী সংক্ষেপঃ

বলা বাহুল্য, এই ছবিতে ভবিষ্যতের এক পৃথিবী দেখানো হয়েছে। আলিটা নামের একটা হিউম্যানয়েড রোবট বা সাইবর্গ কে স্ক্রাপইয়ার্ড থেকে খুঁজে নিয়ে আসেন ডক্টর ডাইসুকো ইডো।

আলিটা কে পুনরায় তিনি জীবন দান করেন আর এক্সস্কেলিটন এর দেহ বানিয়ে দেন তার জন্য। কিন্তু আলিটা তার অতীতের কোন কিছুই মনে করতে পারছিল না।

ইডো বুঝতে পারে এই সাইবর্গ মেয়েটার মেশিনের মাঝে লুকিয়ে থাকা মানব মস্তিষ্কে এক অসাধারন মন রয়েছে। হয়তবা তার অতীত অনেক রোমাঞ্চকর ছিল। ইডো তাকে সব ঝামেলা থেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে।

কিন্তু আলিটার যখন পরিচয় হয় হিউগোর সাথে, আলিটা আস্তে আস্তে মিশে যেতে থাকে আয়রন সিটির রাস্তায় এবং শহর চালানো মাফিয়াদের সাথে তার যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে।

আলিটা কি পারবে তার পরিবার, বন্ধু আর আইয়রন সিটি কে রক্ষা করতে। আলিটার অতীত আবার ফিরে আসে স্মৃতি হয়ে, এর আগেও সে একবার এই লড়াইয়ে নেমে বিফল হয়েছিল, কিন্তু এবার তাকে পারতেই হবে।

যদি একটু ব্যাকগ্রাউন্ড দেখতে যান, তবে শুনুন; আলিটা মূলত Manga উপন্যাস হিসেবে ১৯৯০ এ “Business Jump” ম্যাগাজিনে প্রথম প্রকাশ হয়েছিল। আর Alita: Battle Angle মুভিটা হোল Manga আর হলিউড মুভির মিশেল।

বেশ সাহসী চেষ্টা অবশ্যই বলা যায়। এই ধরনের সাই-ফাই মুভি আগে হয়েছে কয়টা আমার ঠিক জানা নেই। তবে মুভিতে গ্রাফিক্সের আর মিউজিকে ভালো কারিশমা দেখানো হয়েছে। যারা থ্রি-ডিতে দেখবেন তারা অন্যরকম একটা মজা পাবেন।

কিছু বিষয় অবশয়ই খটকা লাগবে, যেমন সাই-ফাই মুভি দেখতে বসলেই আমরা যে ভবিষ্যতের পৃথিবীর চিত্র কল্পনা করি তার অনেকটাই এখানে অনুপস্থিত। তারপর আলিটার আগের কাহিনী পুরোটা না দেখিয়েই গল্প শুরু হয়ে যায়।

যারা আলিটার Manga উপন্যাস সম্পর্কে আগে জানতেন না তাদের জন্য ব্যাপ্যারটা একটু খটকা লাগাবেই।

ছবিতে ডক্টর ইডো আর আলিটার মধ্যকার যে সম্পর্ক তা আরো ভালোভাবে সময় নিয়ে ফুটিয়ে তোলা যেত। কিন্তু মাঝপথে ঢুকে গেছে হিউগো – আলিটার রোমান্স আর সেই সাথে হিউগোর বন্ধু-বান্ধবের কাজকর্ম।

এখানে কিছু সময় নষ্ট হয়েছে বলে আমার মনে হচ্ছে। চাইলেই আরো কিছুক্ষন আলিটার উপর সময় দেয়া যেত। প্রযুক্তির থেকে আবেগকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে মুভিতে।

মুভির প্রধান চরিত্রগুলোর অনেকগুলোই ঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারে নি। শুধু সংলাপ আর ঘোরাফেরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

আরেকটা বিষয় পরিষ্কার বোঝা যায় যখন দেখা যায় মূল ভিলেনকেও একবারের জন্যও দেখানো হচ্ছে না এবং ছবির শেষ দিকে দেখানো হয়, তারমানে এই মুভির আরেকটা সিকুয়্যাল আসতে পারে।

ছবি দেখতে বসলে তার আগে যদি আপনাকে হিস্ট্রি পড়ে যেতে হয়, তবে সেই ছবি দেখার মজা অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। আশা করা যায় পরের পর্বে এর থেকে ভালো ভাবে আলিটাকে উপস্থাপন করা হবে।



লেখালেখির শুরু সেই স্কুলে থাকতেই। তখন বিভিন্ন দেয়ালিকা আর কিশোর পত্রিকায় নিয়মিত লিখতাম। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার ফেরা লেখালেখিতে। মূদ্রনে ভীষন অনীহা আমার। প্রযুক্তি সেই সুবিধা দিয়েছে আমাকে। প্রযুক্তি প্রেমিক বলে আমার লেখায় বারবার চলে আসে এই বিষয়গুলো। আমার সাহিত্য ভাবনা, ঘোরাঘুরি আর কিছু ছবি নিয়ে। একদম সাদামাটা একজন মানুষের মনের কোনে কি উঁকি দেয়?

Leave a Reply